
X
রাজধানীর বাংলাবাজারে খাতা, কলম কিনতে গিয়ে দোকানির সঙ্গে দর কষাকষির এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মইন হাসান।
কাছে গিয়ে জানা যায়, খাতা, কলমের দাম বেশি চাওয়াতেই কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে মইন কিছু না কিনেই ফিরে যান। মইনের অভিযোগ, ২ মাসের ব্যবধানে ২০ টাকার খাতা এখন ৩০ টাকা ও ৫ টাকার কলম চাওয়া হচ্ছে ৭ টাকা।
সরেজমিনে পুরান ঢাকার বাংলা বাজারে ঘুরে দেখা যায়, বাধাই করা খাতা, দিস্তা কাগজ, কলম, পেন্সিল, রং পেন্সিল, স্কেল, জ্যামিতি বক্স, সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর, বই, ব্যাগসহ সকল প্রকার শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েছে। ৮ মাসে সব ধরনের শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ। ২ মাসের ব্যবধানে ২০ টাকার খাতা এখন ৩০ টাকা ও ৫ টাকার কলম বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকায়। আগে ৬৫ গ্রাম কাগজের রিম বিক্রি হতো ১ হাজার ২৮৫ টাকায়। এখন সেই কাগজ ২ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রীত ৫৫ গ্রাম কাগজ ২০২১ সালে ছিল ১ হাজার ৮৫ টাকা, ২০২২ সালে এসে তা বেড়ে ২ হাজার ৫০ টাকা হয়েছে।
প্রতিটি ছোট খাতার দাম ২০ থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। মাঝারিগুলো ৩০ থেকে বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে। ১২০ পৃষ্ঠা খাতার দাম বর্তমানে ৫০ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৩৫ টাকা। ২০০ পৃষ্ঠার দাম ৫০ থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা। ৩০০ পৃষ্ঠার দাম ৯০ টাকা, যা বছরখানেক আগেও ছিল ৬০-৭০ টাকা। অন্যদিকে কলমের দামও বেড়েছে। ৫ টাকার কলমের দাম বেড়েছে ২ টাকা। ১০-১৫ টাকা দামি কলমের দাম ৩-৪ টাকা বেড়েছে। পেন্সিলের দামও প্রায় এমনই। কোম্পানি ভেদে বক্সের দাম ২০-৩০ টাকা করে বেড়েছে। এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ স্কেল ও ব্যাগের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে বাংলাবাজারে বই কিনতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন জানান, মাত্র পনেরো দিনের ব্যবধানে বইয়ের দাম একশ-দেড়শ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। যে বইটা পনেরো দিন আগেও ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কিনেছি সেটা এখন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তাই বই না কিনে ফিরে যাচ্ছি। এত টাকা দিয়ে বই কেনার সাধ্য নেই। ভেবেছিলাম একসঙ্গে না পারি একটা একটা করে কিনব। কিন্তু বইয়ের যে দাম! শিট কপি করে পড়ব। সিলেবাসের সব বই কিনতে গেলে না খেয়ে থাকতে হবে দুই মাস।
তিনি আরও বলেন, এমনিতেই জিনিসপত্রের দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। দুবছর আগে ঢাকায় আসছি। তখন থেকে এখন থাকা খাওয়ার খরচ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বেড়েছে। তার উপর সব শিক্ষা সামগ্রীর দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। এভাবে চললে পড়াশোনা হয়তো চালাতে পারবো না।
শিক্ষা সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে দোকানিরা জানান, আগের চেয়ে বেশি দামে পণ্য ক্রয় করতে হয় বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বাড়লেও এতে তাদের খুব একটা বেশি লাভ হচ্ছে না বলে জানান তারা। তবে সকল দ্রব্যমূলের দাম বৃদ্ধির জন্যই শিক্ষা সামগ্রী দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ দোকানি।
বইয়ের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আমরাবতী প্রকাশনীর মালিক মতিন বাঙালি বলেন, পেপারস মালিকরা সিন্ডিকেট করে কাগজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কাগজের দাম বাড়াতেই বইয়ের দাম বেড়েছে।
বাবু/জেএম