জবির কাউন্সিলিং সেন্টারে মানহীন সেবার অভিযোগ

তানজিল আহম্মেদ, জবি

শিক্ষা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী আকাশ (ছদ্মনাম)। সম্প্রতি প্রেম গঠিত কারণে তীব্র হতাশায় ভুগছেন। বন্ধুর পরামর্শে সেবা নিতে

2023-09-20T15:42:51+00:00
2023-09-20T15:42:51+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
জবির কাউন্সিলিং সেন্টারে মানহীন সেবার অভিযোগ
তানজিল আহম্মেদ, জবি
প্রকাশ: বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৩:৪২ পিএম   (ভিজিট : ২১০)
X

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী আকাশ (ছদ্মনাম)। সম্প্রতি প্রেম গঠিত কারণে তীব্র হতাশায় ভুগছেন। বন্ধুর পরামর্শে সেবা নিতে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলিং সেন্টারে। সেখানে গিয়ে দেখেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী কাউন্সিলিং করছেন। নিজের সমস্যার কথা খুলে বলে কোন কাঙ্খিত সেবা পাননি বলে জানান তিনি।

তার অভিযোগ, কাউন্সেলিং সেন্টারের এমন কোনো বিশেষজ্ঞ নেই যে তাকে প্রত্যাশিত সেবা দিবেন। যারা আছেন, তারা তাকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে, যা তার কাছের মানুষেরাও দেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচ তলায় মাত্র দুটি রুমে পরিচালিত হচ্ছে কাউন্সিলিং সেন্টার। ছোট দুটি রুমে বসে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মানে) অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা একে অপরের সঙ্গে বসে গল্প করছেন। কোনো শিক্ষার্থী সেবা নিতে আসছেন না বলে অলস সময় পার করছেন বলে জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জারিফ তাজওয়ার বলেন, বিশেষজ্ঞ কাউন্সিলর না থাকায় আমাদের কাউন্সেলিং সেন্টারে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যায় না। আমি কয়েকবার গিয়েছিলাম কিন্তু বারবার তাদের সেবায় হতাশ হয়েছি।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার ১৭ বছর পরে গত বছরের জানুয়ারি মাসে স্বল্প পরিসরে উদ্বোধন করা হয় কাউন্সিলিং সেন্টার। শুরুতে ভালো সেবা দিলেও ধীরে ধীরে বিভিন্ন সংকট ও সীমাবদ্ধতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ফলে দেড় বছর পার হলেও একমাত্র কাউন্সিলিং সেন্টার তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে কাউন্সিলিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনাও তেমন নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সারাদেশে যেভাবে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করছে আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। কখন কী হয় বলা যায় না। শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটা চলতে পারে না। তাদের উচিত প্রতিটি বিভাগে এসে অভিহিত করা এবং শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

কাউন্সিলিং সেন্টারের পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডক্টর নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা কাউন্সিলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জন শিক্ষার্থীকে সেবা দিয়েছি। আমাদের এখানে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত কাজ করছেন। আমরা সপ্তাহে চার দিন (মঙ্গলবার) বাদে আপাতত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকি।’

উল্লেখ,কাউন্সিলিং সে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা হতাশাগ্রস্ত, চাকরির পরীক্ষার ভাইবা বোর্ডে ফেল করে, পারিবারিক, অর্থনৈতিক, একাকীত্ব এবং প্রেম সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আসেন। প্রকৃতপক্ষে আমাদের লোকবল এবং বিশেষজ্ঞ কোনো কাউন্সিলর নেই। তবে আমরা চেষ্টা করি তাদের যথাসাধ্য সঠিক পরামর্শ দেওয়ার জন্য। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাকীত্ব দূর করা বলে এ সময় জানান তিনি।

বাবু/জেএম





Loading...
Loading...


শিক্ষা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy