মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত ম্যাঁক্রো

মো. শাহিন হাওলাদার

মতামত

বিশ্বের শিল্প-সাহিত্যের লীলাভূমি হিসেবে ফ্রান্স বৈশ্বির পরিমণ্ডলে এক সুদৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে সুদীর্ঘকাল ধরে। সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, স্বাধীনতা- ফরাসি

2023-10-08T16:14:13+00:00
2023-10-08T16:14:13+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর :
মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত ম্যাঁক্রো
মো. শাহিন হাওলাদার
প্রকাশ: রোববার, ৮ অক্টোবর, ২০২৩, ৪:১৪ পিএম   (ভিজিট : ১৬৪)
X


বিশ্বের শিল্প-সাহিত্যের লীলাভূমি হিসেবে ফ্রান্স বৈশ্বির পরিমণ্ডলে এক সুদৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে সুদীর্ঘকাল ধরে। সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, স্বাধীনতা- ফরাসি বিপ্লবের এ মূলমন্ত্র প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর বাংলাদেশ সফরের সময় তাঁর জীবনাচরণের প্রতিটি পদচারণায় দেখা যায়। এ সময় তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে, নিরাপত্তার দিকটি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গেছেন। উদারতার এমন দৃষ্টান্ত বিশ্বে বিরল। দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দিল্লি থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ম্যাঁক্রোকে লালগালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনে যোগদানের পর ঢাকা সফরে আসেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

২৪ ঘণ্টার কম সময় ঢাকা সফরকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। ঢাকার একটি হোটেলে নৈশ ভোজে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি গেয়েছেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মধ্যরাতে ছুটে গেছেন গানের দল ‘জলের গান’-এর সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পী রাহুল আনন্দের ধানমণ্ডির বাসায়। রাহুলের স্টুডিওতে বসে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ধারণা নিয়েছেন বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পর্কে। একতারার সুরে মোহিত হয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রো।

প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রো রাহুল আনন্দের গান শোনেন। এসময় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে একতারা বাজানো শেখান রাহুল, যা নিয়ে সেখানে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রাহুল আনন্দের কাছ থেকে উপহার পেয়েছেন একটি একতারা। সেখানে রাহুল আনন্দ ছাড়াও আরও তিন শিল্পী আশফিকা রহমান, কামরুজ্জামান স্বাধীন ও আফরোজা সারার সঙ্গে কথা বলেন ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। এ সময় শিল্পীদের গান শোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র দেখেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট নৌভ্রমণের জন্য যে জাহাজটি ব্যবহার করেন সেটি ছিল ফ্রেন্ডশিপ এনজিওর। বাংলাদেশে এসে নৌকায় চড়ে রাজধানীর উপকণ্ঠের তুরাগ নদ ঘুরে দেখলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। তুরাগ নদের ঘাটে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন তিনি।

নৌকাচালক আবদুল হালিমের জীবনে স্মরণীয় ঘটনাটি ঘটে গেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো তাঁর নৌকায় ভ্রমণ করেছেন। ২৬ বছর ধরে নৌকা চালিয়ে আসা হালিমের কাছে ঘটনাটি এখনো স্বপ্নের মতো। মিরপুর বড়বাজারে তুরাগ নদে ভ্রমণ করতে যান ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। সেখানে ইকোপার্কের ঘাটে অবস্থিত চায়ের দোকান ও মিষ্টির দোকান ঘুরে দেখেন। কথা বলেন দোকানের মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে। বৃষ্টির মধ্যে মাঝিদের নৌকাবাইচ ও জেলেদের জাল ফেলে মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ করেন তিনি। সেখানে নৌকাভ্রমণ ও ঘোরাঘুরি মিলিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করেন ম্যাঁক্রো। স্থানীয় চায়ের দোকানদারের সঙ্গে সেলফিও তোলেন ম্যাঁক্রো।

ইকোপার্ক ঘাটে আট বছর ধরে চা বিক্রি করেন মোহাম্মদ রাকিব। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আসবেন জানত। কিন্তু তাঁর মতো বড় একজন মানুষ রাকিবের দোকানে এসে ফোন নিয়ে সেলফি তুলবেন, জীবনেও কল্পনা করতে পারেনি রাকিব।

 আব্দুল হালিমের নৌকায় বসে নৌকাবাইচ দেখেছেন, জেলেদের মাছ ধরা দেখেছেন। ৪০ মিনিটের মতো তিনি আমার নৌকায় ছিলেন। তিনি একদম সাধারণ মানুষের মতো ঘোরাঘুরি করেছেন।

এখানেই শেষ নয়। নৌকাভ্রমণ শেষে ফেরার পথে ইকোপার্ক-সংলগ্ন খাবারের দোকানে যান ম্যাঁক্রো। দোকানদার নুরুল ইসলাম তাঁকে জিলাপি, সিঙাড়া আর নিমকি পরিবেশন করেন এবং খাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি খাবার না খেলেও টিস্যু দিয়ে একটি সিঙারা নিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যান। তিনি যাওয়ার আগে দোকানদারের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে গেছেন। তাঁর সঙ্গে যে সফরসঙ্গীরা আসছিলেন, তাঁরা রাকিবের দোকানে খাবারও খেয়েছেন।

৩৩ বছর পর এটাই প্রথম কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিত্রান্দের বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ম্যাঁক্রোর এই সফরের মাধ্যমে ঢাকা ও প্যারিসের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লেখক : ছাত্রনেতা ও মানবাধিকারকর্মী

বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


মতামত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy