বিএনপির সহিংসতা ও ভুয়া মার্কিন উপদেষ্টা

তানজিব রহমান

মতামত

ছোট একটা গল্প দিয়ে শুরু করছি পৃথিবীকে পাহারারত কয়েকজন ফেরেশতা স্বর্গে বসে মর্ত্যরে সব খোঁজ খবর লিপিবদ্ধ করেন।

2023-10-31T12:54:17+00:00
2023-10-31T12:54:17+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
বিএনপির সহিংসতা ও ভুয়া মার্কিন উপদেষ্টা
তানজিব রহমান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৩, ১২:৫৪ পিএম   (ভিজিট : ১৭৪)
X

ছোট একটা গল্প দিয়ে শুরু করছি পৃথিবীকে পাহারারত কয়েকজন ফেরেশতা স্বর্গে বসে মর্ত্যরে সব খোঁজ খবর লিপিবদ্ধ করেন। তাদের পাশে একটি বড় ঘণ্টা বাঁধানো আছে যদি পৃথিবীতে কেউ একটি মিথ্যা কথা বলে তখন নিয়মানুযায়ী ঘণ্টাটি একবার বেজে উঠে। হঠাৎ ঘণ্টাটি ক্রমাগত বেজেই চলছে আর থামছে না! একজন ফেরেশতা প্রশ্ন করলেন এমনটা ঘটার কারণ কী? উত্তরে অন্যজন জানালো বাংলাদেশে এখন বিএনপি নেতারা সংবাদ সম্মেলন করছেন! গল্পটা শুনে অবাক লাগলেও বর্তমান বাস্তবতার সাথে কাকতালীয় একটা মিল আছে। এ গল্পের কারণ বিএনপি নেতাদের মিথ্যা প্রমাণ করা নয়; তবে তারা যা বলেন, তা যে সত্য নয় তা আবারো ২৮ অক্টোবর প্রমাণিত হল।

রাজনীতির মাঠ গরম রাখার জন্য নেতারা অনেক মজার মজার রাজনৈতিক বাক্যবাণে বিরোধী কর্মীদের বধ করেন বা নিজ দলের কর্মীদের সংগঠিত করেন ঠিকই। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের নামে যে মিথ্যাচার করেছে অনেকে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের সাথে তুলনা করেছে। যার প্রতিফলন ঘটেছে রাজপথে রক্ত ঝরানো আর সাধারণের প্রাণনাশের মাধ্যমে। বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা ২৮ অক্টোবর সাংবাদিকদের যেভাবে বেধড়ক পিটিয়েছে তাতে ৩২ জনের অধিক সাংবাদিক আহত ও মারাত্মক জখমের শিকার হয়েছেন প্রাণও হারিয়েছেন একাধিক জন। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে প্রমাণ দিয়েছেন তারা বিএনপির প্রতি ছিল সহনশীল । আর সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন নতুন অবতার! মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিয়ান আরিফ! এমন মিথ্যাচার এ প্রযুক্তির যোগে চলে? ধরা পড়তে ২৪ ঘণ্টাও লাগেনি। সংবাদ সম্মেলনে বললেন তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা যা ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস অস্বীকার করলো সাথে সাথেই। তাই বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রে সজাগ অবাক হবার কিছু নেই।

প্রশ্ন হল ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সাথে বিএনপির কানেকশন নিয়ে? ঢাকার মার্কিন দূত পিটার হাস বিএনপির ব্যাপারে অতি-আগ্রহের কারণে তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একটি বিতর্কিত চরিত্রে রূপলাভ করেছেন। কখনো তিনি বিএনপি কর্মীদের সাথে নৈশভোজে যোগ দিয়েছেন, কখনো বা আবার বিএনপির হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অক্টোবর বিপ্লবের কৌশল কী হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। মুখে বলছেন আমেরিকা কোন দলের সমর্থন কওে না কিন্তু বাস্তবে বিএনপির জন্য নাকি তিনি অবতার হিসেবে আবির্ভুত হয়েছেন। যা বিএনপির প্রথম সারির নেতাদের মুখ ফসকে বের হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতকে পশ্চিমা শক্তি আশকারা দিয়ে যেভাবে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে এ সহিংসতার ক্ষয়ক্ষতির দায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট নেবে কি? মার্কিন প্রশ্রয়ে বিএনপি এতোটা বিভোর হয়েছে যে তাদের আর জনগণ লাগে না। তারা তাদের কর্মী-সমর্থকদের এমন ভাবে মোটিভেট করেছে যে পুলিশ, সাংবাদিক পিটিয়ে মারলেও কর্মীদের কিছুই হবে না। বিএনপির মার্কিন প্রেম ফিলিস্তিনি মুসলমানদের পক্ষে একটি টু শব্দও উচ্চারণ করেনি বরং বর্বর ইসরায়েলিদের মতো হাসপাতালে হামলা করে অগ্নিসংযোগ করেছে। বিএনপি মনে করছে কেউ তাদের কিছুই করতে পারবে না কারণ মার্কিন শক্তি তাদের সাথে আছে। যার আরেকটা নমুনা আচমকা ভেসে উঠে ২৮ তারিখ সন্ধ্যায়। জোবাইডেনের মিথ্যা উপদেষ্টাকে হাজির করার মাধ্যমে। বিএনপি কিংবা পশ্চিমা শক্তি হয় তো মনে করে বাংলাদেশ এখনো ৭৫ বা ৭৭ সালে আছে তাই বারবার সাধারণ জনগণকে ধোকা দিয়ে পার পেয়ে যাবে। বাংলাদেশ এখন সে যায়গায় নেই তা মনে রেখেই রাজনীতি করতে হবে। কারণ বিএনপি যখন শান্তি সমাবেশের নামে অগ্নিসন্ত্রাসের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যস্ত তখনই চট্রগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম টানেল যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। যার কৃতিত্বও কেবল একজন শেখ হাসিনার; যিনি দুর্যোগে-দুর্দিনে আলোর মশাল হাতে বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে বিরামহীন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে এরপরও কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে অন্ধ সমর্থন দিয়ে যাবে? নাকি পশ্চিমা শক্তির শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য শুভবুদ্ধির উদয় হবে? জনকল্যাণের কথা তাদের চিন্তায় নতুন ভাঁজ ফেলবে। কারণ বিএনপির চোখে বাংলাদেশের গণতন্ত্র না দেখে বরং জনগণের চোখে বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করার এখন সঠিক সময় বলে মনে করছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি ঠিক রাখতে হলে ক্ষমতা দখলের নামে বিএনপি-জামায়াতের সংঘাত সহিংসতা বন্ধের কোন বিকল্প নেই। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যদি বিএনপি ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী হতো তা হলে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ককটেল নিক্ষেপ, গাড়িতে আগুন দেয়া, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ, ক্যামেরা ভাঙচুর, পুলিশ হত্যার মতো কাজগুলো করতে পারতো না। নেতাদের হাইকমান্ড ও পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া এসব ন্যাক্কারজনক কাজ কর্মীরা কখনোই করতে সাহস পায় বলে মনে হয় না। 

মার্কিন ভীসানীতি প্রণয়নের পর আওয়ামী লীগ বিএনপি উভয় রাজনৈতিক দল যেভাবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে আসছিল ২৮ অক্টোবর বিএনপির সাথে জামায়াত যুক্ত হওয়ায় বিএনপির উগ্রতা বেড়ে  গেল কিনা? কিংবা জামায়াতের উপর বিএনপির নির্ভরতার কোনো আলামতের সংকেত কিনা এ বিষয়গুলোও সজাগ দৃষ্টিতে দেখতে হবে। শান্তি সমাবেশের নামে অগ্নিসন্ত্রাসীরা কেন আবার তাদের পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হলো এখানে জামায়াত শিবির তাদেরকে কতটা সাহস যুগিয়েছে? অতীতের প্রতিশোধ নিতে এমনটি করেছে কিনা তাও প্রশ্ন উঠছে। 

তাই তাদের উদ্দেশ্যই যদি অগ্নিসন্ত্রাস কিংবা মানুষ হত্যার মতো নৃশংস কর্মকাণ্ড হয়; তবে মার্কিন য্ক্তুরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহানুভূতি তাদেরকে আরো হিংস্র করে তুলতে পারে কি-না? তা আরো গভীরভাবে ভাবতে হবে। বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পশ্চিমাদের নজরে থাকার কথা বার বার বলে আসার পরও ২৮ অক্টোবর ঢাকায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশের নামে যে রাজনৈতিক সহিংসতা বিএনপি-জামায়াত শুরু করল, তা দেশকে, আগামীর অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে? তাও গভীরভাবে ভাবতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতার ক্ষুধা এতো বেশি যে রাজনীতির মাঠে মিথ্যা গুজব, বিদেশিদের ভুল তথ্য প্রদান, নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গও এখন আর ব্যাপার না। যাদের গণভিত্তিহীন আন্দোলন গণদাবিতে রূপ নেয়নি। গত ১৪ বছরেও তাদের বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখানোর কী আছে? বরং বদলে যাওয়া বাংলাদেশের প্রশংসা এখন বিশ^নেতাদের মুখে মুখে। এর পরও যে বিদেশি শক্তি অগ্নিসন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে যাচ্ছে, তারা কি তাদের সহিংসতার দায় নেবে? নাকি নতুন করে বাংলাদেশ নীতি নিয়ে ভাববে? তাদের জনগণের স্বপ্নের বাংলাদেশ নিয়ে তাদের বোধোদয় আর কতদূর?

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট






Loading...
Loading...


মতামত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy