
X
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের ভোটাধিকার একটি প্রধান শক্তি যা দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে সকল পর্যায়ের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সেই সাথে উৎকণ্ঠা। বিদেশিদের মধ্যেও জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আগ্রহ ও তৎপরতা চোখে পড়ার মতো; বিশেষ করে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উৎসাহ, কৌতূহল ও পরামর্শ লক্ষণীয়।
সবারই প্রত্যাশা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য হোক। যেকোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হলে ভোটারদের আকাক্সক্ষা, প্রত্যাশা এবং উদ্বেগের জায়গাটি বোঝা অপরিহার্য। এক কথায় ভোটারের মন বোঝা প্রয়োজন। কাজটি সহজসাধ্য নয়। এজন্য প্রয়োজন নিবিড় গবেষণা ও জটিল হিসাব নিকাশ বা যুক্তি প্রদান। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমনই একটি জটিল গবেষণার কাজ করেছেন গণমানুষের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত।
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান এবং ওই নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল কি হতে পারে সে সম্পর্কে ড. বারকাত তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্রে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। আগ্রহী পাঠকবৃন্দ বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ওয়েবসাইটে (https://bea-bd.org/site/notice-details/103) ব্রাউজ করে বিস্তারিত গবেষণা পত্রটি পড়ে দেখতে পারেন।
গত ২৬ অক্টোবর “ভোটারের মন ও আসন্ন ২০২৪ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল” শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ এই গবেষণাপত্রটি অধ্যাপক বারকাত বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির প্ল্যাটফর্মেএকটি জাতীয় সেমিনার ও প্রেস কনফারেন্সে তুলে ধরেন। পরদিন (২৭ অক্টোবর) দৈনিক সমকাল পত্রিকায় তিন পৃষ্ঠাব্যাপী গবেষণাটির সার সংক্ষেপ প্রকাশিত হয়। ২৬ অক্টোবরের সেমিনারের পর এই গবেষণাটির ফলাফল দেশের সব গণমাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বসহকাওে প্রকাশ করা হয়। বিদেশি গণমাধ্যমেও সংবাদটি প্রকাশিত হয়। এক কথায় সারাদেশে এটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
আলোড়ন সৃষ্টির কারণ, অধ্যাপক আবুল বারকাত তাঁর গবেষণার ফলাফল হিসেবে দেখিয়েছেন যে, আসন্ন ২০২৪ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পেতে পারে ১৪৮-১৬৬ আসন, আর বিএনপি ১১৯-১৩৭ ও অন্যান্য দল ১৫টি আসন। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের একটি গবেষণা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি তাৎপর্য ও গুরুত্ব বহন করে। তবে প্রশ্ন হতে পারে কিসের ভিত্তিতে অধ্যাপক বারকাত এ রকম ফলাফল পেলেন?
এ প্রসঙ্গে ড. বারকাত তাঁর গবেষণা পত্রে গবেষণার পদ্ধতি প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, “যেকোনো দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে যা-কিছু বলা হয়, তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রধানত জরিপনির্ভর। এসব জরিপ হতে পারে শুমারি বা সেন্সাস ধরনের অথবা প্রতিনিধিত্বশীল নমুনা মাঠজরিপ ধরনের। কয়েকটি গুরুতর সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা আনুষ্ঠানিক কোনো নমুনা জরিপের আশ্রয় নেইনি। নমুনা জরিপ থেকে ভোটারের মনের গভীরের বিষয়াদি বোঝা দুঃসাধ্য ব্যাপার। আমরা যা করেছি, তা হলো-পুরো বিষয়ের “যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ” (Inferential analysis)। এক্ষেত্রে সরাসরি শুমারি না করা হলেও বিগত কয়েকটি নির্বাচনের শতভাগ আসনের সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্যাদি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে আমরা এমন কিছু প্যাটার্ন নির্ণয় করতে চেয়েছি, যা আসন্ন নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট মাত্রায় প্রযোজ্য হতে পারে। এর পাশাপাশি দোদুল্যমান ভোটারদের মন বুঝতে আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের সাথে দীর্ঘ খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করেছি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অনুশীলনে আমরা কয়েকটি চলক (Variable) এবং তাদের সংশ্লিষ্ট মান-মাত্রা-গতিমুখ নির্ণয়ের চেষ্টা করেছি। এসব চলকের মধ্যে গুরুত্ত্বপূর্ণ হলো “ভিত্তি ভোট”, “ভিত্তি আসন”, “দোদুল্যমান ভোট”, দোদুল্যমান ভোটারদের ভোট প্রদান সিদ্ধান্তের পেছনের ফ্যাক্টরÑকাউন্টার ফ্যাক্টর।
পদ্ধতিগতভাবে আরো একটা বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর তা হলো-আমরা ধরে নিয়েছি যে, “আসন্ন ২০২৪ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক”। এর অর্থ, আসন্ন নির্বাচন “অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক” না হলে আমাদের প্রক্ষেপিত দলভিত্তিক নির্বাচনি ফলাফল প্রযোজ্য হবে না।”
অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত তাঁর গবেষণায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য আসন সংখ্যার যে প্রক্ষেপণ করেছেন, তা যথেষ্ট মাত্রায় সঠিক ও দৃঢ়-সবল এবং সম্ভাব্য নির্বাচনি ফলাফলসংশ্লিষ্ট গৃহীত পদ্ধতিতত্ত্ব যথেষ্ট বিজ্ঞানসম্মত। গবেষণায় আগের চারটি ‘অপেক্ষাকৃত ভালো’ নির্বাচনের ফলাফলকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে ১৯৯১, ১৯৯৬-এর জুন, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ ভোটার বিভিন্ন দলের অনুগত ভোটার। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ আওয়ামী লীগের, ৩০ শতাংশ বিএনপির আর ১০ শতাংশ অন্যান্য দলের। আর এর বাইরের ৩০ শতাংশ ভোটার দলীয় অনুগত নন। এই দোদুল্যমান ৩০ শতাংশ ভোটার কাকে ভোট দেবেন, তা পূর্বনির্ধারিত নয়।
ড. বারকাতের মতে, দেশে ৩০ শতাংশ ভোটার আছেন, যারা “দলীয় অনুগত ভোটার নন” অথবা যারা “দলীয় স্থায়ী ভোটার নন”, যারা “এখনও তাদের ভোট প্রদান সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি”, অথবা যারা “বড় দুই দলের কোনো দলের প্রার্থীকে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে এখনও ভাবছেন, এখনও মনস্থির করেননি”Ñ এসব ভোটারই ভোট লড়াইয়ের নায়ক। কারণ, এদের ভোট দিয়েই বিজয় (পরাজয়) নিশ্চিত হবে। জিতবেন তিনি, যিনি এদের ৫৬ শতাংশ ভোট পাবেন।
অধ্যাপক আবুল বারকাতের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হলে এবং সব দল, প্রার্থী ও ভোটারের জন্য নির্বাচনি মাঠ সমান হলে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৪৮ থেকে ১৬৬টি, বিএনপি ১১৯ থেকে ১৩৭টি এবং অন্যান্য দল ১৫টি আসন পেতে পারে।
অধ্যাপক আবুল বারকাতের হিসাবে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৫টি আসনের ভাগ্য মোটামুটি নির্ধারিত, যেগুলো দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ভিত্তি আসন’ বা ‘সম্ভাব্য বিজয় নিশ্চিত আসন’। এই ১৫৫টি ভিত্তি আসনের মধ্যে ৭০টি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের, ৭০টি বিএনপির এবং বাকি ১৫টি আসন পেতে পারে জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এলডিপি ও বিজেপি।
ড. বারকাত তার গবেষণার ফলাফলে আরও উল্লেখ করেছেন বড় দুই দলের মধ্যে যেকোনো দলকে সরকার গঠন করার জন্য প্রয়োজনীয় আরও ৮১টি আসন পেতে হলে ‘দোদুল্যমান ভোটারদের’ ভোটের ওপর নির্ভর করতে হবে। যেকোনো আসনে জিততে হলে দোদুল্যমান ভোটারদের ৫৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে। দোদুল্যমান ভোটারদের ভোট প্রদানের সিদ্ধান্তে দ্রব্যমূল্য, মানব নিরাপত্তা, পদ্মা সেতু, ২০১৮ সালের নির্বাচন, নিষেধাজ্ঞা, ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ ঘোষণা অবজেক্টিভ ফ্যাক্টর এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্টার ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া, প্রভাবক হিসেবে আত্মীয়তা, বন্ধুবান্ধব, ঘনিষ্টজন, মুরুব্বিদের উপদেশ-আদেশ-নির্দেশ, পিতৃতান্ত্রিকতা (নারীর ক্ষেত্রে) সাবজেক্টিভ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। অধ্যাপক আবুল বারকাত বলেন, ভোটারের সম্ভাব্য দলীয় আনুগত্য অবস্থা, ভিত্তি ভোটের (দলীয় অনুগত ভোটারের ভোট) ধারণা, ভিত্তি আসনের (সম্ভাব্য বিজয় নিশ্চিত আসন) ধারণা, বিজয়-অনিশ্চিত আসনের ধারণা, দোদুল্যমান ভোট, দোদুল্যমান ভোটারদের ভোট প্রদান সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনের ফ্যাক্টর-কাউন্টার ফ্যাক্টর এবং এসবের সম্ভাব্য প্রভাব ও গতিমুখ, ভোটারদের ভৌগলিক অবস্থান বিভাজন (পদ্মা সেতুর প্রভাব অঞ্চল এবং তার বাইরের অঞ্চল) ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সাথে দীর্ঘ খোলামেলা আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৫টি বিজয় নিশ্চিত এবং ১৪৫টি বিজয়-অনিশ্চিত আসনের জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখবেন দোদুল্যমান ভোটাররা। তবে ভিত্তি আসন অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে বিজয় নিশ্চিত আসনে দোদুল্যমান ভোটারদের ভূমিকা থাকবে কম। অন্যদিকে বিজয়-অনিশ্চিত আসনের ভাগ্য নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা থাকবে দোদুল্যমান ভোটারদের।
অধ্যাপক আবুল বারকাত আরও উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন অনুসিদ্ধান্তভিত্তিক হিসাবপত্রে দেখা গেছে, দেশের ১৪৫টি বিজয়-অনিশ্চিত আসনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ৭৮-৯৬টি আসন এবং বিএনপি ৪৯-৬৭টি আসন পেতে পারে। পদ্মা সেতুর কারণে পদ্মা সেতু ভোট লভ্যাংশ হিসেবে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২৩টি বিজয়-অনিশ্চিত আসনের সবকটিতে আওয়ামী লীগ এবং ঢাকাসহ দেশের পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর অঞ্চলের ১২২টি বিজয়-অনিশ্চিত আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫৫-৭৩টি এবং বিএনপি ৪৯-৬৭টি আসন পেতে পারে।
সম্ভাব্য চূড়ান্ত ফলাফল বহাল থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে জোট হতে পারে জাতীয় পার্টির সাথে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষে এককভাবেও সরকার গঠন সম্ভব হতে পারে যদি তাদের আসন সংখ্যার গতিমুখ সর্বোচ্চ সম্ভাব্য-আসনমুখী হয় (অর্থাৎ সর্বনিম্ন ১৪৮ আসন থেকে সর্বোচ্চ ১৬৬ আসনমুখী হয়)।
সম্ভাব্য চূড়ান্ত ফলাফল যদি বহাল থাকে, তাহলে বিএনপির পক্ষে এককভাবে সরকার গঠন সম্ভাবনা নেই। তবে বিএনপির পক্ষে জোটবদ্ধ সরকার গঠনের গাণিতিক যে সম্ভাবনা আছে, তা যথেষ্ট শর্তসাপেক্ষ। এক্ষেত্রে বিএনপিকে অবশ্যই সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন প্রাপ্তি (১৩৭টি আসন) নিশ্চিত করে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ অন্য সবার সাথে জোটবদ্ধ হতে হবে। একইসাথে আওয়ামী লীগের আসন সংখ্যা কোনো অবস্থাতেই সম্ভাব্য সর্বনিম্ন সংখ্যক (১৪৮টি আসন) আসনের বেশি হতে পারবে না। এত বেশি শর্তসাপেক্ষ বিধায় বিএনপির পক্ষে জোটবদ্ধ সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা ক্ষীণ।
জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল সংশিষ্ট অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের গবেষণা পত্রটি নেহায়েত কোনো একাডেমিক অনুশীলন নয় বরং তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু যেটি রাজনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং ভোটারদের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করে, ভোটারদের অনুভূতি এবং তাদের মনের মধ্যে অনুরণিত বিষয়গুলো উন্মোচন করে। এটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমির উপর একটি তথ্য-চালিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা ভোটারদের মনকে আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ করেদেয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেঅধ্যাপক আবুল বারকাতের এই গবেষণা পত্রটি রাজনৈতিক দল থেকে সুশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। ভোটারের মন একটি জটিল ক্ষেত্র যা অনেক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়; ড. বারকাত অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে তাঁর গবেষণায় সেই বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন।
গণতন্ত্রের চেতনা এবং উন্নত বাংলাদেশের অন্বেষণে অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের গবেষণা ভোটারের মনের জটিল বিষয়াদি বোঝা এবং সংশ্লিষ্ট ফলাফল জানার ক্ষেত্রে একটি দিকনির্দেশনা প্রদান করে, যা জাতির জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের প্রতি ইঙ্গিত দেয়।
আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনটি যদি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলকহয় অর্থাৎ সব দল অংশগ্রহণ করে এবং সে নির্বাচনের ফলাফল যদি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের এই গবেষণাটির ফলাফলের সাথে মিলে যায় বা কাছাকাছি হয় তাহলে এই গবেষণার বাস্তব প্রতিফলন আমরা দেখতে পাব বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
লেখক : গবেষক ও উন্নয়নকর্মী