প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০২৪, ৭:৫৭ পিএম (ভিজিট : ২০০)

X
রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারত। তবে ‘ত্রাতার’ ভূমিকায় ছিল নওরতন কলোনির পুকুর। যে পুকুরের পানি দিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা হয় আগুন। বেঁচে যায় অসংখ্য মানুষের প্রাণ।
নওরতন কলোনির নিরাপত্তা প্রহরী সালাম বলেন, আগুন লাগলে শুরুতে পাইপ দিয়ে পুকুর থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়৷ পরে ফায়ার সার্ভিস এসে এ পুকুর থেকেই পানি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম বলেন, ‘এ পুকুরটা না থাকলে আশপাশের অনেক ভবনেই আগুন ধরে যেত। অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটত। পুকুরটাই অনেক অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। অথচ আমরা ঢাকা শহরের সব পুকুর-জলাশয় ভরাট করে ফেলছি।’
ইলেকট্রনিক সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব)-এর সভাপতি নিয়াজ আলী চিশতি বলেন, ‘এ ভবনে কোনো ফায়ার সেফটি প্ল্যান ছিল না। ছিল না অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। যদি পাশের ভবনের (নওরতন কলোনি) পেছনের পুকুর না থাকত, তাহলে ভয়ংকর অবস্থায় পড়তে হতো। মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতো। পুকুরটাই অগণিত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে।’
এদিকে প্রাথমিকভাবে ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্ট থেকে আগুন ছড়ানোর খবর শোনা গেলেও নিচের একটি দোকান থেকে আগুন ছড়িয়েছে বলে জানান র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ আলম।
তিনি বলেন বলেন, নিচের একটি ছোট দোকানে প্রথমে আগুন লেগেছিল। সেখানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে তারা প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ মানুষই ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধে মারা গেছেন।
তিনি বলেন, ভবনটিতে একটি মাত্র সিঁড়ি ছিল। দুটি লিফট ছিল। ভবনের নিচতলার প্রবেশমুখে আগুন লাগার পর কেউ নামতে পারেনি।