
X
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সেসময় একদম নতুন হওয়ায় কোন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল না। তাই প্রথমদিকে আমরা শুধু বিভাগ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গুলোতে নাটক মঞ্চায়ন করতাম। পরবর্তীতে বাহার, মিনহাজ, শিবসংকর, ভবানী, সজীব, সীমা, রিয়াদসহ বেশ কজন শিক্ষার্থী মিলে আমরা এই সংগঠনটি গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করি এবং সংগঠনটির পরিচলনা ও নাট্যশিল্পীদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সংস্কৃতিমনা শিক্ষকদেরও খুব কাছ থেকে পেয়েছি।
কথাগুলো বলেছেন থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক শান্ত চন্দ্র চক্রবর্তী। পরবর্তিতে সংগঠনটি ২০১২ সালের ১৪ই এপ্রিল কিছু স্বপ্নবাজ তরুণ এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে 'বউ' নাটক মঞ্চস্থের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করে। সৃষ্টিলগ্ন থেকে এই সংগঠনটি সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় মননশীল ও বরাবরের মতো প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চর্চা করে যাচ্ছে।
আজ পর্যন্ত সংগঠন টি ৯টি নাটক (বউ, দালাল, স্ট্যাচু অব ডেমোক্রেসি, কবর, চৌরাস্তা, খ্যাতির বিড়ম্বনা, বেহুলা ভাসান, ইনডেমনিটি ও ১৯৭১), ৭টি নাটিকা(একুশের একাল সেকাল, দিন বদলের পালা, পাগল পাগল বদ্ধ পাগল, রুপু, রক্তক্ষরণ, ইকুইটি, একুশ এবং অতঃপর ও একুশ আমার অহংকার) , ২টি পথ নাটক (উল্লুকের দেশে ও ফ্রী ভিসার ফাঁদে) ও ২টি কোরিওগ্রাফি (ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি ও বাঙালির স্বাধীনতা) প্রযোজনা করে।
যার মধ্যে স্ট্যাচু অব ডেমোক্রেসি, বেহুলা ভাসান ও ইনডেমনিটি এই তিনটি নাটক থিয়েটার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রযোজনা।
এর পাশাপাশি সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত "আন্তঃবিভাগ নাট্য প্রতিযোগিতা " এবং "অন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক উৎসব" আয়োজন করার পাশাপাশি ২০১৯ও ২০২৩ সালে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক দুইটি নাট্য উৎসব আয়োজন করে। যেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য সংগঠন ‘জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার’, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য সংগঠন ‘থিয়েটার সাস্ট’, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য সংগঠন ‘কৃষাণ থিয়েটার’ ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের নাট্যদল অংশগ্রহণ করে।
এছাড়াও সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা ছাড়াও এই পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার উপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অসুস্থ শিক্ষার্থী ও অসহায়দের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
সংগঠনটির সভাপতি গুলশান পারভীন সুইটি বলেন, নাটক হলো সমাজের দর্পণ তাই প্রতি বছরই আমরা আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন ঘটনা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। যাত্রার শুরু থেকেই থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল এবং সৃজনশীল কাজ করে যাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। এর পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছি। থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক চর্চাই করে না, বরং মানবিক কাজেও অংশগ্রহণ করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যখনই কেউ চিকিৎসার জন্য অর্থাভাবে পড়েছে, তখনই আমরা একনিষ্ঠভাবে তার চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছি এবং প্রায় প্রতিবছরই আমরা অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও নাটক মঞ্চায়নের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিসহ মানবিক সহায়তার লক্ষ্যে থিয়েটার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই কাজ করে যাবে।