
X
বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জীবন গঠনের জন্য নয় এখানে উন্মুক্ত জ্ঞান চর্চা হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি এর আঙিনা জুড়ে থাকে কতশত স্মৃতি আর ভালোবাসা। আড্ডা, গানবাজনা, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি ঠাট্টা, দুষ্টুমি আর খুনসুটি তো আছেই।
বলছিলাম নজরুলের স্মৃতিঘেরা ৫৭ একর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এর কথা। প্রায় আট হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী এবং দুই শতাধিক শিক্ষক রয়েছেন এ ক্যাম্পাসে। প্রায় প্রতিটি কাজে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারীদের সমন্বিত অংশগ্রহণে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজে ওতপ্রোত অংশগ্রহণ যেমন রয়েছে , তেমনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে সমান প্রবেশ। এখানে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি ধর্মচর্চারও কমতি নেই। বিভিন্ন ধর্মীয় দিনগুলোতে যেমন তাদের উৎসব পালন করে মুসলমানগণ ও তাদের নিজস্ব ধর্মীয় রীতি মেনে চলে।তারই প্রতিফলন দেখা যায় রমজান মাসে।
রমজান ইসলামী বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস যা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি মাস।এ মাসে মুসলমানগণ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ফরজ রোজা পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আসার পূর্বে পরিবারের সকলের সাথে রোজা পালন করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে রমজানের বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয় ক্যাম্পাসে। ক্লাস পরীক্ষার মধ্যেও ক্যাম্পাসে রোজা পালন কিছুটা কষ্টের হলেও সারাদিন শেষে সবাই একসাথে করা ইফতার যেনো স্বস্তি বয়ে আনে।
বিকালে পেরিয়ে সন্ধা গড়াতেই শেখ রাসেল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জমে শিক্ষার্থীদের ভীর। মাঠের বিভিন্ন জায়গায় গোল হয়ে বসতে দেখা যায় তাদের।কেউ সরবত বানাচ্ছে, কেউ বা মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনী, আলুর চপ, ডাল বড়া, সবজি বড়া, হালিম, বিভিন্ন ধরণের কাবাব, জিলাপি ইত্যাদি মিশিয়ে বানাচ্ছে ইফতার। ইফতার শুরুর শেষ সময়ে এসে আবার মোনাজাত করতেও দেখা যায়। ইফতারে আসলে সব ভেদাভেদ ভুলে সিনিয়র জুনিয়র নির্বিশেষে সকলকে একত্রে ইফতার করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে দেখা যায়। ক্যাম্পাসে ইফতার যেনো সম্প্রীতিরই বার্তা দেয়।
ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন আকাশ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এখন আমাদের সকলের দ্বিতীয় পরিবার। সারাদিন রোজা রাখার পর সন্ধ্যার সময় যখন বন্ধু-বান্ধব এর সাথে ইফতার করি তখন পরিবারের অভাবটা অনেকাংশে ঘুচে যায়।
আমাদের ইফতারের আইটেম হয়তো অনেক থাকে না তবে থাকে সবার মধ্যে সম্পৃতি আর ভালোবাসা। এর মাঝেই ডিপার্টমেন্ট, এসোসিয়েশন ও হলের ইফতার মাহফিল থাকে। তখন লোকসংখ্যা বৃদ্ধি হওয়াতে ইফতারের আমেজ কয়েকগুন বেড়ে যায়। আশা করি, এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকবে।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, ইফতার হচ্ছে মুসলিমদের দ্বারা পালিত একটি ধর্মীয় আচার। পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ সময়। রমজান মাসে ইফতারের সময় ক্যাম্পাসে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বন্ধুবান্ধব, সিনিয়র-জুনিয়র সবাই মিলে একসাথে ইফতার করা যেন ক্যাম্পাসে নিজ পরিবারকে খুঁজে পাওয়া। এই অনুভূতি একা একা ইফতারে কখনও পাওয়া সম্ভব না। অন্য ধর্মাবলম্বী ভাইয়েরা একসাথে উপস্থিত হওয়ায় পরিবেশটা আরো সুন্দর হয়ে উঠে। কাছের বন্ধু, ভাইদের সাথে ইফতার করে তারপর একসাথে মাগরিবের সালাত আদায় করা এ এক অসাধারণ অনুভূতি।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শ্রাবণী রাণী সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ইফতার আয়োজনে বন্ধুদের পাশে বসে ইফতার করা,বিভিন্ন ক্লাব -সংগঠন তাদের সাথে একত্রে ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া আমার কাছে একটা আত্মিক তুষ্টিবিধানের জায়গা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ কলাম লেখক ফোরামের আমি একজন সক্রিয়কর্মী। আমাদের এ সংগঠনের ইফতার আয়োজনে অংশ গ্রহণ করার জন্য ওই দিন আমি বাসা থেকে চলে আসি। এই যে নিজের বাড়ি থেকে চলে আসা এটা কিন্তু এই সংগঠনের মানুষগুলোর প্রতি হৃদয়ের টান। আমাদের সবারই উচিত ধর্ম-বর্ণ বিভেদ না করে মানুষকে মানুষ হিসেবেই ভালোবাসা।