
X
পৃথিবীর মধুরতম শব্দ ‘মা’। সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর পরম আশ্রয়ের মানুষ মা। মায়ের পরম মমতায়, ভালোবাসায়, আদরে-যত্নে লালিত হতে থাকে ছোট্ট শিশুটি। আব্রাহাম লিংকনের একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে- ‘যার মা আছে সে কখনই গরীব নয়।’মা নিয়ে দারুণ কবিতা লিখে গেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মা কবিতাই তিনি বলেছেন, ‘যেখানেতে দেখি যাহা, মা-এর মতন আহা। মার বড়ো কেউ নাই –কেউ নাই কেউ নাই! নত করি বল সবে মা আমার! মা আমার!’
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বব্যাপী উদযাপন করা হয় ‘মা দিবস’।
১৯০৮ সালে সর্বপ্রথম মা দিবস উদযাপন করেছিলেন আন্না জার্ভিস নামে এক ব্যক্তি। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় নিজের মায়ের স্মৃতির জন্য এই বিশেষ দিনটি উৎসর্গ করেছিলেন তিনি।পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে যুক্তরাস্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালন এবং এদিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন।
তবে মা দিবস পালনের ইতিহাস আরও পুরোনো। প্রাচীন গ্রীক ও রোমান সভ্যতার সময় থেকে মা কে উৎসর্গ করে একটি দিবস পালিত হতো।এছাড়া ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে ষোড়শ শতাব্দিতে মা এবং মাতৃত্বকে সম্মান জানাতে একটি নির্দিষ্ট রোববারকে বেছে নেয়া হয়েছিল, যা ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে পরিচিত। এ দিনটি ছিল পারিবারিক পুনর্মিলনের মত।মানুষের ভেতরে যেমন মা এর জন্য ভালবাসা আছে, তেমনি আছে প্রকৃতির ভেতরেও, ভালবাসা আছে অন্যান্য প্রাণীদের ভেতরেও।
শুধু মানব জাতিই নয়, ধরিত্রীতে বিরাজমান প্রায় সকল প্রাণীদের মাঝেই দেখা যায় মাতৃত্বের অনন্য নিদর্শন। যা সভ্যতার মানদণ্ডের উর্ধ্বে উঠে ঘোষণা করে মাতৃত্বের বিশালতা। প্রকৃতিতে ভালোবাসার স্নিগ্ধ স্রোতধারার নাম মাতৃত্ব।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষায় ‘মা’ ডাকের শব্দগুলোর মধ্যেও আছে উচ্চারণগত অদ্ভূত এক মিল। সবগুলো শব্দের শুরুই ‘এম’ অথবা ‘ম’বর্ণটি দিয়ে। জার্মান ভাষায় ‘মাট্টার’, ওলন্দাজ ভাষায় ‘ময়েদার’, ইতালিয়ান ভাষায় ‘মাদর’, চীনা ভাষায় ‘মামা’, প্রাচীন মিশরীয় ভাষায় ‘মাত’, সোয়াহিলি ভাষায় ‘মামা’ এবং আফ্রিকান, হিন্দি ও বাংলা ভাষায় ‘মা’। দিনটি মাতৃত্ব ও মাতৃসত্তার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য স্মরণ করিয়ে দেয়। স্মরণ করিয়ে দেয় পৃথিবীতে আমাদের পদচারণার মূল কাণ্ডারিকে।
সন্তানের জন্য সব থেকে বেশি যে আত্মত্যাগ করতে পারেন, তিনিই মা।
দিনটি আজ মায়ের সেবা করার কাজে লাগাতে পারেন। করতে পারেন তার জন্য বিশেষ রান্নাও। যদি ব্যক্তিগত কিংবা কাজের সূত্রে মায়ের কাছ থেকে আজ অনেকটা দূরে থাকেন, তবে ফোন করে কিছুক্ষণ কথা বলে সময় কাটাতে পারেন তার সঙ্গে। যদিও অনেকেই মনে করেন, মা’কে ভালোবাসার জন্য বিশেষ এই দিনটির প্রয়োজন নেই। কারণ প্রতিদিনই মা’কে ভালোবাসার দিন হওয়া উচিত।
তবে প্রতিদিনের ভালোবাসাকে আরেকটু বাড়িয়ে বিশেষ করতে এই দিনটির গুরুত্বকে কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়েরাই যেন সুখী থাকেন, সন্তান হিসেবে এই যেন হয় আমাদের সবার প্রত্যাশা।