নাসার চেষ্টা ব্যর্থ! মহাকাশেই আটকে আছেন সুনীতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মনে করা হয়েছিল যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে সুনীতাদের নিয়ে ফিরবে বোয়িং স্টারলাইনার। কিন্তু তাঁদের না নিয়েই পৃথিবীতে ফিরছে বোয়িং

2024-08-29T14:31:38+00:00
2024-08-29T14:31:38+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
কমছে রক্তকণিকা, ক্ষমতা কমছে পেশি আর হাড়ের!
নাসার চেষ্টা ব্যর্থ! মহাকাশেই আটকে আছেন সুনীতারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৪, ২:৩১ পিএম   (ভিজিট : ৩৬৮)
X

মনে করা হয়েছিল যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে সুনীতাদের নিয়ে ফিরবে বোয়িং স্টারলাইনার। কিন্তু তাঁদের না নিয়েই পৃথিবীতে ফিরছে বোয়িং স্টারলাইনার।
 বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস


দুই মহাকাশচারী বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস আপাতত বন্দি মহাকাশেই। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে দিন কাটছে সুনীতা ও তাঁর সঙ্গী নভোচরের।
 বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস


গত জুন মাসে মহাকাশে রওনা দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভোচর সুনীতা উইলিয়ামস। মাত্র ৮-১০ দিনের জন্য মহাকাশ সফরের প্রস্তুতি নিয়ে বুচ উইলমোরের সঙ্গে ইলন মাস্কের বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে চেপে পাড়ি জমান সুনীতা উইলিয়ামস।

 বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

কিন্তু মহাকাশযানের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাশূন্যেই আটকে রয়েছেন ওই দুই মহাকাশচারী। মহাকাশযানের যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে মহাকাশচারীদের মহাকাশে রেখে দেওয়াই নিরাপদ পন্থা।

প্রথমে মনে করা হয়েছিল যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে সুনীতাদের নিয়ে ফিরবে বোয়িং স্টারলাইনার। পরে জানা যায়, তাঁদের না নিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসবে মহাকাশযানটি। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ওই মহাকাশযান ফিরে আসবে পৃথিবীতে।
সুনীতা উইলিয়ামস

সুনীতা উইলিয়ামস

বোয়িং স্টারলাইনার নামের ওই মহাকাশযান থেকে হিলিয়াম গ্যাস লিক হচ্ছিল। সেই অবস্থায় পৃথিবীতে ফেরার চেষ্টা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেছিল নাসা।


বোয়িং স্টারলাইনার সুনীতাদের ছাড়াই ফিরে আসার ফলে সংস্থার বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। অন্তত সাড়ে ১২ কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বোয়িং, ভারতীয় মুদ্রার হিসাবে যা প্রায় ১০৪৮ কোটি টাকা।

সুনীতা উইলিয়ামস

সুনীতা উইলিয়ামস

নেই যোগাযোগের পথ, পদে পদে মৃত্যুর হাতছানি! তবু কিসের টানে লাখো মানুষ পেরোতে চান ‘নরকের দ্বার’?

তবে মহাকাশযানের যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে আসছে। মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্তদের একাংশের অভিযোগ, ছিদ্রপথে হিলিয়াম বেরিয়ে আসছে, তা আগে থেকেই জানত নাসা এবং বোয়িং।


এখনই সুনীতা এবং তাঁর সহযাত্রী ব্যারি বুচ উইলমোরের পৃথিবীতে ফেরার সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছে না আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
 বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে আরও একটি মহাকাশযান পাঠাবে নাসা।

ইলন মাস্কের নিজস্ব মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস এক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে করে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বলে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

আগামী ছ’মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রেই কাজ করবেন সুনীতা এবং বুচ। মহাকাশে গবেষণার কাজেই তাঁরা কাটিয়ে দেবেন এই দীর্ঘ সময়।


তবে সময় যত এগোচ্ছে, বাড়ছে আশঙ্কা। দীর্ঘ দিন ধরে মহাকাশে আটকে থাকায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে সুনীতা ও বুচের। যদিও নাসা দাবি করছে, সুনীতা এবং ব্যারির প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা নেই।
 বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস


শরীরের ওপর অভিকর্ষের নিরবচ্ছিন্ন টান না থাকায় মহাকাশে মানবদেহের পেশি ও হাড়ের ঘনত্ব দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। দুই সপ্তাহ পরেই পেশির ঘনত্ব ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ছয় মাস থাকলে তা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এ ছাড়াও মহাকাশে থাকলে দ্রুত হারে কমতে থাকে লাল রক্তকণিকার পরিমাণ। সে ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে রক্তাল্পতার মতো শারীরিক সমস্যারও।

গবেষণা বলছে, মহাকাশে থাককালীন নভোচরের প্রতি সেকেন্ডে ২ লক্ষের বদলে ৩ লক্ষ লোহিত কণিকা ধ্বংস হয়ে যায়।


আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে মহাকাশেই রয়েছেন সুনীতারা। এর আগে ২০০৬ ও ২০১২ সালে মহাকাশ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন সুনীতা। সব মিলিয়ে ৩২২ দিন মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

হাড় ও পেশির ক্ষয় রোধে প্রতি দিন কয়েক ঘণ্টা করে ব্যায়াম করছেন তাঁরা। তাঁদের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখছেন চিকিৎসকেরাও।


নাসার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি দিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমোচ্ছেন সুনীতা ও বুচ। তাঁদের ওজন যাতে না কমে যায় তার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে পুষ্টিকর খাবার ও পানীয়ের।


নভোচরদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দিন মহাকাশে থেকেছেন নাসার ফ্র্যাঙ্ক রুবি। তিনি ৩৭১ দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশে কাটিয়েছিলেন।


মহাকাশে একটানা সবচেয়ে বেশি সময় থাকার রেকর্ড রাশিয়ান নভোচর ভ্যালেরি পলিয়াকভের। ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি মির মহাকাশ স্টেশনে ৪৩৭ দিন কাটিয়েছিলেন।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy