মাদ্রাসায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সংগীত বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা

ঢাকার সরকারী আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত জাতীয় সংগিত বন্ধের দাবিতে মাদরাসা বোর্ড বকশি বাজারে মানববন্ধন বৃহস্পতিবার

2024-08-30T16:10:44+00:00
2024-08-30T16:10:44+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
মাদ্রাসায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সংগীত বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৪, ৪:১০ পিএম   (ভিজিট : ৩২৫)
X

ঢাকার সরকারী আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত জাতীয় সংগিত বন্ধের দাবিতে মাদরাসা বোর্ড বকশি বাজারে মানববন্ধন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়।

২৯-শে আগষ্ট “আলিয়া মাদরাসা ছাত্র ঐক্য পরিষদ” এর আহবায়ক মুহম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন,বিগত সরকার আলিয়া মাদরাসা’র মত একটি ইসলাম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর জোর করে কথিত ‘জাতীয় সংগীত’ চাপিয়ে দেয়। 

অনেক মাদরাসায় প্রাত্যহিক সমাবেশকালে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের এই গান গাইতে বাধ্য করা হয়। অথচ মাদরাসা একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। পবিত্র কুরআন-হাদীস শেখানোর স্থান। পবিত্র কুরআন শরীফে সূরা আন নিসার ৪৮ নং আয়াত শরীফে আছে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক সমস্ত গুনাহ মাফ করেন, কিন্তু শিরকের গুনাহ মাফ করেন না।” 

রবীন্দ্রনাথের লেখা কথিত জাতীয় সংগীত বিভিন্ন শিরকী কথায় ভরপুর। সেই শিরকী কথা সমৃদ্ধ গান মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা পাঠ করতে পারে না।

মুহম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আরো বলেন, কবি রবীন্দ্রনাথের লেখা আমার সোনার বাংলা গানের প্রথম ১০ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে পাঠ হয়। কিন্তু মূল গানটি ২৫ লাইনের। পুরোটি গান অবলোকন করলে স্পষ্ট হয়, রবীন্দ্রনাথ তার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে বাংলাকে দেবী হিসেবে কল্পনা করেছে। তাই জাতীয় সংগীতকে এক প্রকার দেবী বন্দনা বলা যায়। যা দ্বীন ইসলামের আকিদ্বা বা বিশ্বাসের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। একজন মুসলমান, বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা কিছুতেই তা পাঠ করতে পারি না।

“আলিয়া মাদরাসা ছাত্র ঐক্য পরিষদ” এর যুগ্ম আহ্ববায়ক, মুহম্মদ সাজিদ আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রের সীমানা বিবেচনা করলে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের কবি নয়, সে ভারতীয় কবি। তার জন্ম ও মৃত্যু দুটোই ভারতের সীমানায়। সে ভারতের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। 

বাংলাদেশের অনেক গুণী লেখক-কবি আছেন। তাদের লেখা রচনা বাদ দিয়ে ভারতীয় কবির কবিতাই কেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হতে হবে? মুহম্মদ সাজিদ আব্দুল্লাহ আরো বলেন, ‘আমার সোনার বাংলা’ গানে যে বাংলা’র কথা বলা হয়েছে, সেই বাংলা আর আমাদের বাংলাদেশ তো এক নয়। ইতিহাস স্বাক্ষী, ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথ গানটি রচনা করে। 

বঙ্গভঙ্গের কারণে কলকাতাকেন্দ্রীক জমিদারদের বর্তমান বাংলাদেশের উপর আধিপত্যবাদ খর্ব হয়। সেই কষ্টে এই গানটি রচনা করে কলকাতার জমিদার রবীন্দ্রনাথ। তাই এ গানের চেতনার সাথে বর্তমান বাংলাদেশ সৃষ্টির চেতনা সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। সুতরাং এ গানটি কখনই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। 

মুহম্মদ সাজিদ আব্দুল্লাহ আরো বলেন, আমরা দিল্লীর পিঞ্জরমুক্ত নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এখন দিল্লীর কবির জাতীয় সংগীত থেকেও মুক্তি চাই। 

মুহম্মদ সাজিদ আব্দুল্লাহ বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের নজির রয়েছে। যেমন- সুইজার‌ল্যান্ড, রাশিয়া, কানাডা, মায়নামার, নেপাল, জার্মানিতে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন হয়েছে। তাহলে বাংলাদেশে জাতীয় সংগীত পরিবর্তন হতে সমস্যা কোথায় ? “আলিয়া মাদরাসা ছাত্র ঐক্য পরিষদ” এর সম্মানিত সদস্য,মুহম্মদ গোলাম সামদানি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ এর ২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউকে ভিন্ন ধর্মের কার্য গ্রহণ করতে বাধ্য করা যাবে না। 

অথচ মুসলিম শিক্ষার্থীদের উপর জোর করে একটি ভিন্ন ধর্মের গান চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী। সুতরাং অবিলম্বে মাদ্রাসা গুলোতে রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সংগীত জাতীয় সংগীত পাঠ বন্ধ করতে হবে।





Loading...
Loading...


শিক্ষা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy