প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৬ এএম আপডেট: ২৭.১২.২০২৫ ১০:৫২ এএম (ভিজিট : ৮৬)

X
জেঁকে বসেছে শীত, সাত জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন সারাদেশে শীতের দাপট বাড়তে শুরু করেছে। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি নেমে এসেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চারপাশ, যার ফলে সড়ক, নৌ ও আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে— যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে দিনের বেলাতেও তীব্র হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, মাত্র ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৫ ডিগ্রি। এছাড়া রাজশাহীতে ১০.৪, রংপুর ও খুলনায় ১১.২ এবং বরিশালে ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রাতের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে। ফলে শীতের অনুভূতি তীব্রতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর থেকে তাপমাত্রা আরও কমার ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে যে, মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা বজায় থাকতে পারে। অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে, বিমানের শিডিউল বিপর্যয় ঘটতে পারে। নৌযান ও ফেরি চলাচল সীমিত হতে পারে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।
আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানান, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে স্বাভাবিক লঘুচাপ বিরাজ করছে, যার প্রভাব উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে আগামী পাঁচ দিন আবহাওয়ার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তায় চলাচলের সময় যানবাহনের হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য এই তীব্র শীত বাড়তি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।