সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ভাইস চ্যান্সেলর পৃথকভাবে শোকবার্তা প্রদান করেছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এক শোকবার্তায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন সংগ্রামী নেত্রী। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, গুণগত মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। সারাদেশের প্রায় আড়াই হাজার কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন পুরোনো শিক্ষাক্রম সংস্কারের পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী গভীরভাবে শোকাহত বলে তিনি জানান।
অপরদিকে, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এক শোকবার্তায় বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ হারালো গণতন্ত্রের একজন অভিভাবককে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে এবং একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ ক্ষতি কখনোই পূরণ হবার নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা চ্যান্সেলর ছিলেন।
শোকবার্তায় ভিসি আরও বলেন, “পদবির বাইরেও বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন লড়াইয়ের প্রতীক, নীরব সহনশীলতার শক্তি ও অদম্য সাহসের ভাষা। অপমান, অবিচার, কারাবাস এবং দীর্ঘ অসুস্থতার মাঝেও তিনি মাথা নত করেননি। ক্ষমতাকে নয়, দায়িত্বকে বেছে নিয়ে দেশকে ভালোবাসার অর্থ তিনি আমাদের শিখিয়েছেন।”
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।