
X
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় এবার আমনের আশানুরুপ ফলন হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে অনেকে বাম্পার ফলন হয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন।
পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকা, পোকার আক্রমন খুব কম থাকার কারণে কৃষকরা তাদের আমন ধানের আশানুরুপ ফলন ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। গতবারের তুলনায় এবার আমন ফসল আরও ভাল হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানান।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন মন্ডল বলেন শ্যামনগর উপজেলায় আমন ধান আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৮৩৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আবাদ বেশি হয়েছে।
এবার ফলন চাউলে লক্ষ্যমাত্রা ছিল উফসি ২.৯০ মেট্রিকটন। অর্জিত ৩.২ মেট্রিকটন। হাইব্রিড চাউলে লক্ষ্যমাত্রা ৩.৮ মেট্রিকটন। অর্জিত ৪.১ মেট্রিকটন। বিঘা প্রতি আমন ফসল হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ মণ। গতবার উপজেলায় আমন ধান আবাদ হয়েছিল ১৬ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে। ফলন ছিল হাইব্রিড চাউলে ৩.৮৫ মেট্রিকটন ও উফসি ২.৯২ মেট্রিকটন।
উপজেলায় লবন পানির চিংড়ি চাষের প্রভাব থাকলেও দিনে দিনে কৃষি ফসল উৎপাদনের দিকে বিশেষ করে আমন ধান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন কৃষকবৃন্দ। যা কৃষকবৃন্দ ও উপজেলা কৃষি অফিস মতামত ব্যক্ত করেন। উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, কাশিমাড়ি, শ্যামনগর, নুরনগর, কৈখালী, আটুলিয়া, ভূরুলিয়া ইউনিয়নে বেশি আমন ধান আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চাষকৃত জাতের মধ্যে ছিল উফসিতে বিআর-১০, ব্রিধান-৩০, ব্রিধান-৪৯, বি-৮৭, ব্রি-৭৫, ব্রি-৫১। হাইব্রিড চাষের মধ্যে ছিল বায়ার-৭০০৬, ধানী গোল্ড। স্থানীয় জাতের মধ্যে ছিল চিনিকানি। এটি ফলনে ১৪ থেকে ১৫ মণ পেয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক শ্যামনগরের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদ্দার বলেন তাদের নির্ধারিত কয়েকজন কৃষক স্থানীয় জাতের আমন ধানের চাষ করেছেন এবং ফলনও ভাল পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন ১৬২ প্রকার স্থানীয় জাতের আমন ফসল ছোট ছোট প্লট করে কৈখালীতে চাষ করেছিলেন ফলনও পেয়েছিলেন ভাল।স্থানীয় ধান বিশেষ করে চিনিকানি ধানের মূল্য সবচেয়ে বেশি বলে জানান।
বুড়িগোয়ালিনী ইউপির আবাদচন্ডিপুর গ্রামের আমন চাষি মিজানুর রহমান বলেন এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন পাওয়া গেছে। এখন মূল্য পাইলে খুশি। মুন্সিগঞ্জ ধানখালী গ্রামের আমন চাষি সুনিল বৈদ্য বলেন আমনের ফলন আশানুরুপ হয়েছে। ফলন ভাল পাওয়া গেছে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগ না থাকার কারণে।
আমন চাষি ফজলুল হক, কৈখালীর হাবিবুর রহমান, ধূমঘাটের কৃষাণি অল্পনা রানী বলেন কৃষকের কষ্টার্জিত আমন ফসলের ন্যায্য মূল্য পাইলে পরিবারের অনেক স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হবে। তারা বলেন বর্তমানে এলাকায় ধানের বস্তা প্রতি মূল্য ১৬শত টাকা থেকে ১৭শত টাকা।
উপজেলায় সরকারিভাবে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। উপজেলা খাদ্য অফিস সুত্রে প্রকাশ, এবার সরকারিভাবে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে এবং চলবে ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত। ধানের মূল্য প্রতি কেজি ৩৪/- টাকা ও চাউলের (সিদ্ধ) মূল্য প্রতি কেজি ৫০/-টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১৫১ মেট্রিকটন ও চাউল ৬৭ মেট্রিকটন। এর মধ্যে আতপ চাউল ২৫ মেট্রিকটন। নকিপুর, নওয়াবেঁকী খাদ্য গুদামে ধান চাউল সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে খাদ্য অফিস সুত্রে প্রকাশ।
উপজেলার বিদায়ী কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন শ্যামনগরে এবার কৃষকের আমন ফলন বাম্পার ফলন বলা যায়। তারা আশানুরুপের চেয়ে বেশি ফলন পেয়েছেন। ফলন ভাল হওয়ার কারণ ছিল পর্যাপ্ত এবং সময়োপযোগি বৃষ্টিপাত, পোকার আক্রমণ কম, কৃষি বিভাগের তৎপরতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ ছিলনা এবং কৃষকদের পরিচর্যা ছিল ভাল।