চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বৈধ প্রার্থী ১০২, বাতিল ৪১

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাবাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই বাছাই

2026-01-05T17:02:03+00:00
2026-01-05T17:02:03+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বৈধ প্রার্থী ১০২, বাতিল ৪১
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০২ পিএম   (ভিজিট : ১৬৫)
X

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। চার দিনব্যাপী এই বাছাই শেষে মোট ১৪৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনজন রিটার্নিং অফিসার ধারাবাহিকভাবে আসনভিত্তিক মনোনয়নপত্র যাচাই শুরু করেন। এই কার্যক্রম শেষ হয় রোববার (৪ জানুয়ারি)। শেষ দিন একযোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে জমা পড়া ১৪৩টি মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে ৪১টি বাতিল এবং ১০২টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা প্রত্যেকে আইন অনুযায়ী আপিল করার সুযোগ পাবেন। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) থেকে আপিল গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

রোববার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে চট্টগ্রাম নগরের চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও), চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী) এবং চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং–হালিশহর–পাহাড়তলী) আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে। একই দিনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাছাই হয় চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী), চট্টগ্রাম–১৪( চন্দনাইশ ও আংশিক সাতকানিয়া), চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া আংশিক) এবং চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনের মনোনয়নপত্র।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মো. হেদায়েত উল্যাহ জানান, নগরীর তিনটি সংসদীয় আসনে জমা পড়া ৩২টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ২১টি বৈধ এবং ১১টি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আওতাধীন চারটি আসনে জমা পড়া ৩০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ২৫টি বৈধ এবং ৫টি বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাছের, জাতীয় নাগরিক পার্টির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফসহ ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. সেহাব উদ্দীনের দলীয় মনোনয়নে নমুনা স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আজাদ চৌধুরীর দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর তালিকার সত্যতা মাঠ পর্যায়ে যাচাইয়ে না পাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী) আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. ফজলুল হকের বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গৃহীত হওয়ার কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করতে না পারায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই আসনে নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদারের হলফনামার সঙ্গে শিক্ষাগত সনদের অমিল, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিটি করপোরেশনের ঋণ ও বিল খেলাপি হওয়া, জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরীর হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা ও আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলন কান্তি শর্মার ১ শতাংশ ভোটারের তালিকার সত্যতা না পাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং–হালিশহর–পাহাড়তলী) আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। খেলাফত মজলিসের মো. আলী ওসমানের হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ওসমান গণির ভুল কোডে জামানতের টাকা জমা দেওয়া, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরীর ফরম–২১ সঠিকভাবে পূরণ না করা এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় মোট ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ছাড়া প্রার্থী হয়ে নিজেই নিজের প্রস্তাবক হওয়ায় আলী আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া ঋণ খেলাপি হওয়ায় গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। এ আসনে বিএনপির সরোয়ার জামাল নিজাম ও জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসানসহ ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও আংশিক সাতকানিয়া) আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অপর ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে জমা দেওয়া তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই যাচাই–বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হকের মূল হলফনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে বাকি ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আপিল নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy