প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৪ পিএম (ভিজিট : ১৩৩)

X
বেনাপোল পৌরসভা এলাকার ছোট আচড়া, বড় আচড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গবাদি পশুর মলমূত্র ও ময়লা-আবর্জনা খোলা জায়গায় ফেলার কারণে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এসব এলাকায় নোংরা পানি জমে থাকছে, যা মশার বংশবিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কথা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাশিদাকে জানানো হলেও গত ছয় মাসেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরেজমিনে এসে পরিস্থিতি দেখার অনুরোধ করা হলে তিনি বারবার পৌরসভায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করতে বলেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাশিদার কথামতো পৌরসভায় অভিযোগ জানাতে গেলে পৌরসভার পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণের জন্য এক হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা চাওয়ার বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাশিদার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি টাকা চাইনি, অন্য কেউ চাইতে পারে।”
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব ঘটনার পরও দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান সমাধান তারা পাননি। এতে করে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি টাকা না দিলে পৌরসভার সেবা পাওয়া যাচ্ছে না?
এছাড়াও বেনাপোল পৌরসভা এলাকায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বেনাপোল বাজার, স্থলবন্দর সংলগ্ন এলাকা ও মহাসড়কের দুই পাশে জমে থাকা ময়লা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফুটপাত দিয়ে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। স্থলবন্দরের ১ নম্বর গেট থেকে আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত এলাকায় ময়লা ও মানুষের মলমূত্র পড়ে থাকায় মানুষ নাক চেপে চলাচল করছে।
পৌরসভার নাগরিক জি. এম. আশরাফ বলেন, “আমরা নিয়মিত পৌর কর দেই। কিন্তু কর দেওয়ার পরও যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে মানুষ রোগে আক্রান্ত হবে। এখানে মশার উপদ্রব মারাত্মক, ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌরসচিবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসী দ্রুত পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত ময়লা অপসারণ এবং কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।