
বরেন্দ্র জনপদ নাচোলের লাল মাটির বুকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে যে কটি প্রতিষ্ঠান, তার মধ্যে অন্যতম 'সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়'। উপজেলার কসবা ইউনিয়নে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি কেবল একটি ইটের দালান নয়, বরং গত প্রায় ছয় দশক ধরে এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বুননের কারিগর। ১৯৬৬ সালে স্থাপিত এই বিদ্যাপীঠটি সময়ের পরিক্রমায় আজ একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।
১৯৬৬ সাল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সেই সময়ে প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যারা এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁরা আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁদের কীর্তি অম্লান।
প্রতিষ্ঠালগ্নে যাঁরা নিজেদের মেধা, শ্রম ও অর্থ দিয়ে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে তাহের উদ্দিন, ডা. এমদাদুল হক, মুনসুর রহমান, অয়েজ উদ্দিন, ডা. আব্দুল গফুর, আব্দুর নূর মিয়া, চাঁন মোহাম্মদ মন্ডল, ইসমাইল হোসেন, ওছিমুদ্দীন দেওয়ান এবং ফয়েজ উদ্দিন মন্ডল অন্যতম। তাঁদের সেই নিঃস্বার্থ ত্যাগের ফলেই আজ সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এলাকাবাসী আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এই শিক্ষানুরাগী মহান ব্যক্তিদের।
একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাণ হলেন তার প্রধান শিক্ষক। সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসের পাতায় জড়িয়ে আছে বেশ কয়েকজন দক্ষ প্রধান শিক্ষকের নাম। বিভিন্ন সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছিলেন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, ইয়াসিন আলী, এজাবুল হোসেন এবং আব্দুস সালাম। তাঁদের দিকনির্দেশনা ও শাসনে বিদ্যালয়টি বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই পার করে এগিয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন জনাব আব্দুর রহিম। তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি একটি আদর্শ ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে বিদ্যালয়ে ফিরে এসেছে শৃঙ্খলার পরিবেশ। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসেছেন। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, বর্তমান প্রধান শিক্ষকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁরা কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, আবার কেউ বা সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে এলাকার মুখ উজ্জ্বল করছেন।
১৯৬৬ সালে রোপণ করা সেই ছোট চারাগাছটি আজ বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয় একদিন জাতীয় পর্যায়ে নাচোলের নাম উজ্জ্বল করবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য জ্ঞান চর্চার এক পবিত্র কেন্দ্র হিসেবে টিকে থাকবে অনন্তকাল।