চুয়াডাঙ্গায় পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা

সারাবাংলা

পৌষ মাস জুড়ে টানা শৈত্য প্রবাহ আর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার

2026-01-08T11:02:45+00:00
2026-01-08T11:06:45+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
চুয়াডাঙ্গায় পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন
স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০২ এএম  আপডেট: ০৮.০১.২০২৬ ১১:০৬ এএম  (ভিজিট : ২৯)
X

পৌষ মাস জুড়ে টানা শৈত্য প্রবাহ আর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জনজীবন।

হাড় কাঁপানো শীতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, অসহায় ও দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায়  চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। এর আগের দিন বুধবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে গতকাল ও আজ রোদের দেখা মিলেছে তাতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।

ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা ও হিমশীতল বাতাসে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে অনীহা দেখাচ্ছেন। তবে জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের। জেলার বিভিন্ন মোড় ও চায়ের দোকানের সামনে খড়কুটো, কাঠ ও পুরোনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।

গ্রাম থেকে শহরে আসা ভ্রাম্যমাণ মুরগি বিক্রেতা ইয়ারুল আলি বলেন, ভোরে বাইসাইকেল নিয়ে শহরে ঘুরে ঘুরে হাঁস-মুরগি বিক্রি করি। সাধারণত বেলা ১১টার মধ্যেই বাড়ি ফিরে যাই। কিন্তু গত দুদিন তীব্র শীতের কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বিক্রি কম, ফিরতেও দেরি হচ্ছে।

দিনমজুর বাবর আলী বলেন, একদিন কাজ না করলে সংসার চলে না। তাই ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে এলেও পরিবারের তাগিদে কাজে বের হতে হচ্ছে। 

৬০ বছর বয়সী ভ্যানচালক শফি বলেন, খুব সকালে বের হয়েছি। মনে হচ্ছে হাত-পা বরফ হয়ে যাচ্ছে। যাত্রীও মিলছে না। হালকা বাতাসেই শরীর কাঁপছে। এভাবে আরও কয়েকদিন চললে সকালে বের হওয়াই মুশকিল হবে।

হোটেল কর্মচারী সাদ্দাম হোসেন জানান, প্রতিদিন ভোর থেকেই নাশতার কাজ শুরু করতে হয়। ঠান্ডা পানিতে হাত দিলে আঙুল নড়ানোই কঠিন হয়ে যায়। তবুও পেটের দায়ে কাজ থামানো যায় না।

শীতের তীব্র প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনস্বাস্থেও। সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডাজনিত জ্বর ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মিলন বলেন, এই শীতে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। মাথায় শীতের টুপি-মাপলার, হাতে-পায়ে মোজা, শরীরে গরম কাপড় পরতে হবে। কুসুম গরম পানি করে গোসল করতে হবে। তাদের  বাড়ির বাইরে বের হতে দেয়া যাবে না।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন রাত ও ভোরে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy