জলাবদ্ধতার শঙ্কায় মাগুরখালীসহ ডুমুরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

সারাবাংলা

প্রবল বেগে পলি জমে ভরাট হচ্ছে এক সময়ের খরস্রোতা গ্যাংরাইল নদী। ৭০ থেকে ১০০ ফুটের বেশি গভীরতার এই

2026-01-08T16:27:33+00:00
2026-01-08T16:27:33+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
জলাবদ্ধতার শঙ্কায় মাগুরখালীসহ ডুমুরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৭ পিএম   (ভিজিট : ৫২)
X

প্রবল বেগে পলি জমে ভরাট হচ্ছে এক সময়ের খরস্রোতা গ্যাংরাইল নদী। ৭০ থেকে ১০০ ফুটের বেশি গভীরতার এই নদী বর্তমানে ভাটায় ৫ থেকে ৭ফুট গভীরতা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতার হুমকীতে পড়েছে মাগুরখালীসহ ডুমুরিয়ার দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চল। নতুন করে পানিবন্দির আশংকায় প্রায় ৪ু০ হাজার পরিবার। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ শৈলমারী নদী পলি জমে গোচারণ ভুমিতে পরিণত হয়েছে আরো ৩ বছর আগে। যার ফলে বিলডাকাতিয়াসহ উত্তর ডুমুরিয়া এলাকায় বছরে ৬মাস পানিবন্দি হয়ে পড়ে ৫০ হাজার পরিবার।    

জানা যায়, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০ ফুট গভীরতা কমে গেছে গ্যাংরাইল নদীর। প্রবল খরস্রোতা নদীটি আজ মরাখালে পরিণত হতে যাচ্ছে। উজানের পলি সরাসরি নদীতে এসে জমা হওয়ায় তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। সাগরে পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি উপচে বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। গত ভাদ্র মাসে জোয়ারে পাউবোর বেড়িবাঁধ উপচে বারুইকাটি এলাকায় ভিতরে পানি প্রবেশ করে।  

গ্যাংরাইল নদী বারোআড়িয়া-বয়ারঝাপা হয়ে শিবসায় মিশেছে। বর্তমানে শিবসা নদীও পলিতে ভরাট হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়রা-পাইকগাছা এলাকায় শিবসার অস্তিত্ব হারিয়েছে। যে নদী দিয়ে একটা সময় লঞ্চসহ বড় বড় কার্গো চলতো সে নদীর বুক দিয়ে এখন মানুষ পায়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছে। ডুমুরিয়া উপজেলার শৈলমারী-সালতা-ভদ্রা ইতিমধ্যে পলিতে ভরাট হয়ে গোচারণ ভুমিতে পরিণত হয়েছে। ডুমুরিয়া ও তালা-পাইকগাছা সীমান্তবর্তী সালতা নদীও ভরাট হয়ে গেছে। 

গ্যাংরাইল নদী শোলগাতিয়া থেকে বারোআড়িয়া চৌমহনী পর্যন্ত সাড়ে ২৮ কিলোমিটার বর্তমান বেহাল অবস্থা হয়ে দাড়িয়েছে। এ নদী দিয়ে উপজেলার মাগুরখালী, সাহস, শরাফপুর, আটলিয়া, ভান্ডারপাড়া, ডুমুরিয়া, রুদাঘরা, ধামালিয়াসহ যশোর জেলার অভয়নগর, কেশবপুর ও মনিরামপুর এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয়। বর্তমানে নদীর অবস্থা খুবই ভয়াবহ। 

শিবনগর গ্রামের বঙ্কিম ঘোষ জানান, গ্যাংরাইল নদী দ্রুত ভরাট হতে শুরু করেছে। দ্রুত নদী ড্রেজিং না করলে পলি পড়ে সমতল ভুমিতে পরিণত হবে এবং এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিবে। কুলবাড়িয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম মুন্না জানান, নদীর স্বাভাবিক স্রোতে বাঁধা পড়ায় দ্রুত পলি জমে ভরাট হচ্ছে। এ নদী ভরাট হলে মাগুরখালী, সাহস, ডুমুরিয়া, আটলিয়াসহ আশপাশ এলাকার অন্তত ৪০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে। এদিকে সালতা নদী সুন্দরবুনিয়া থেকে পাইকগাছার গুনোখালী পর্যন্ত, কুলবাড়িয়া নদী সালতা পর্যন্ত ও ভদ্রা নদী নরনিয়া স্লুইজ গেট পর্যন্ত ইতিমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, উজানে আসা পলিতে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে গ্যাংরাইল নদীর অবস্থাও খুবই ভয়াবহ। ৫/৬ বছরের ব্যবধানে নদী তার যৌবন হারাতে বসেছে। দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এনদী খননের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।   





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy