
X
দেশের চাবি আপনার হাতে এই স্লোগান সামনে রেখে আসন্ন সাংবিধানিক গণভোটে জনগণের মতামত নেওয়ার কথা বলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে রাজনগর উপজেলার বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। এখানে চা বাগান ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বড় একটি অংশ এখনো জানেই না গণভোট কেন হচ্ছে, কী বিষয়ে ভোট দিতে হবে কিংবা কীভাবে মত প্রকাশ করবেন।
সরেজমিনে রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ১৩টি চা বাগানে বসবাসকারী অধিকাংশ শ্রমিক জানেন ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীরাও নিয়মিত ভোট চাইতে এসেছেন। কিন্তু একই দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এই তথ্য তাদের কাছে প্রায় অজানা।
একাধিক চা শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ‘গণভোট’ শব্দটির অর্থই স্পষ্টভাবে বোঝেন না। কেন এই ভোট, এতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কিংবা ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের তাৎপর্য কী এসব বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। অথচ এই চা বাগানগুলোতেই রয়েছে রাজনগরের একটি বড় ভোটার জনগোষ্ঠী।
চা বাগানের বাইরেও উপজেলার হাওরপাড় ও গ্রামাঞ্চলের চিত্র প্রায় একই। অনেক কৃষক ও সাধারণ ভোটার জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে অবগত থাকলেও গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখতে পারছেন না। তাদের ভাষ্য, গণভোট নিয়ে কোনো উঠান বৈঠক, মাইকিং, লিফলেট বা সরাসরি প্রচারণা চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এমনকি সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ে খোঁজখবর রাখা মানুষজনও গণভোটে ঠিক কোন কোন বিষয়ে মতামত নেওয়া হবে তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। তাদের মতে, প্রচার-প্রচারণা মূলত শহরকেন্দ্রিক থাকায় গ্রাম ও চা বাগান এলাকার মানুষ কার্যত এর বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই গণভোটে সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান বাস্তবায়ন এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে। প্রস্তাবগুলোর পক্ষে ভোট দিলে ‘হ্যাঁ’ এবং বিপক্ষে হলে ‘না’ ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গণভোট নিয়ে প্রচারণা কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে চা বাগান ও প্রত্যন্ত এলাকায় পরিকল্পিত উদ্যোগ না থাকলে গণভোটের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
রাজনগর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গণভোট সংক্রান্ত প্রচারণা বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা হাতে পৌঁছায়নি। নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সচেতন মহলের মতে, গণভোট কেবল আরেকটি ভোট নয় এটি রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ। কিন্তু সেই সুযোগ সম্পর্কে যদি মানুষ জানতেই না পারে, তাহলে দেশের চাবি জনগণের হাতে এই বার্তা কতটা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।