প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০৯ পিএম (ভিজিট : ৫৯)

X
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রাথমিক স্তরে উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং, বিনামূল্যে বই বিতরণসহ নানান কর্মসূচির কারণে নব্বইয়ের দশকের পর দেশে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। এরই ধারাবাহিকতায় এক যুগ ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় শতভাগে। যদিও ভর্তি-উপস্থিতির হারে সাফল্য এলেও প্রাথমিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষার মানে। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলেও অনেক শিশু এখনো মৌলিক পাঠ, গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এই শিখন ঘাটতি মিটিয়ে শিক্ষার নড়বড়ে ভিত শক্তে এবার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনছে সরকার। মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার প্রচলিত ধারা থেকে সরে এসে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় জোর দিতে প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে আধুনিক জিআরআর (গ্র্যাজুয়াল রিলিজ অব রেসপনসিবিলিটি) মডেল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জিআরআর একটি শিক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামো, যেখানে শিক্ষক ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর ওপর শেখার দায়িত্ব ছেড়ে দেন এবং শিক্ষার্থীকে স্বনির্ভর করে তোলেন। এটি ‘আমি করি, আমরা করি, তুমি একা করো’ (I do, we do, you do) নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে শিক্ষকের সহায়তা কমিয়ে শিক্ষার্থীর নিজস্ব দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা।
জিআরআর কৌশলটি মূলত চারটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে শিক্ষক নিজে পড়ে শোনাবেন। দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী একসঙ্গে পাঠে অংশ নেবেন। তৃতীয় ধাপে শিক্ষার্থীরা জুটিতে বা সহপাঠীদের সহযোগিতায় পড়বে। সর্বশেষ ধাপে শিক্ষার্থী কোনো সহায়তা ছাড়াই নিজে নিজে পড়তে শিখবে। এভাবে শিক্ষক প্রথমে মডেলিং করবেন, পরে যৌথ অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে শেখার উপযোগী করে তুলবেন।