
X
ছবি : প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট ভবনে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘সস্তা রাজনীতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক অর্জন ও শহীদদের আত্মত্যাগকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।’
তিনি বলেন, কোনো একক রাজনৈতিক দল বা সংগঠন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না। দেশের সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম সম্মিলিতভাবে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। তাই মাঠপর্যায়ে বিতর্ক, বিভেদ ও বিভাজন তৈরি করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও সস্তা রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তা না হলে পরাজিত ফ্যাসিস্ট মাফিয়া চক্র আবারও সুযোগ নিতে পারে। জুলাইয়ের চেতনা ছিল মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের সংকল্প নিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে বৈচিত্র্যের নামে কোনো কৃত্রিম বিভাজন থাকবে না।’
তিনি বলেন, প্রতিহিংসা ও সস্তা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে শিষ্টাচার এবং সুস্থ সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তারুণ্যের অদম্য শক্তির মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশের বড় সিদ্ধান্তগুলো হবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছাত্রদল জাবি শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, জাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবির জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ, ছাত্রফ্রন্টের সংগঠক, জাবি সাংবাদিক সমিতি ও জাবি প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও স্মৃতিচারণ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।