প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৯ পিএম আপডেট: ১৩.০১.২০২৬ ৫:১৫ পিএম (ভিজিট : ২০৯)

X
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নিরাপদ খাবার পানির সংকট দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার হাজারো মানুষ চরম পানিবঞ্চনার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নলকূপ বসিয়েও মিলছে না পানি। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবারকে অন্যের বাড়ির পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার জন্য প্রতি মাসে গুনতে হচ্ছে অর্থ।
রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন হামিদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ নলকূপই কার্যত অকার্যকর। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম (৪৫) জানান,
আমাদের নলকূপে নিয়মিত পানি ওঠে না। নদী থেকে বালতি ভরে পানি এনে নলকূপে ঢেলে চাপ দিতে হয়। তাতেও কখনো পানি ওঠে, কখনো ওঠে না। শেষ পর্যন্ত পাশের বাড়ি থেকে পানি আনতে হয়। মাসে ১০০ টাকা দিতে হয় এই টাকাও জোগাড় করা কষ্টকর।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনগরের যেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২২ ফুটের নিচে নেমে গেছে, সেখানে সাধারণ নলকূপ দিয়ে বছরের অধিকাংশ সময়ই পানি পাওয়া যায় না। শুষ্ক মৌসুমে সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। অনেক পরিবার নলকূপ বসিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না।
পানির অভাবে রান্না, কাপড় ধোয়া ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে কুশিয়ারা নদীর দূষিত পানির ওপর। কেউ কেউ নলকূপে বৈদ্যুতিক মোটর কিংবা কম্প্রেশার বসালেও পর্যাপ্ত পানি তুলতে পারছেন না। এতে একদিকে বাড়ছে ব্যয়, অন্যদিকে দেখা দিচ্ছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি।
এ বিষয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য এমদাদুল হক টিটু বলেন,নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে এখন সাধারণ টিউবওয়েল দিয়ে পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিবছর মানুষ একই দুর্ভোগে পড়ছে। দ্রুত সরকারি উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
তিনি আরও বলেন, বৃহৎ পানির ট্যাংক স্থাপন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আবেদন পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
রাজনগরের পানিবঞ্চিত মানুষের একটাই প্রত্যাশা নিরাপদ খাবার পানির স্থায়ী সমাধান। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে এই দীর্ঘদিনের সংকট আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।