
X
জাজিরা থানার বহুল আলোচিত সদ্য সাবেক ওসি ইন্সপেক্টর মাঈনুল ইসলামকে ঘিরে আলোচনা থামছেই না। সম্প্রতি জাজিরার বিলাসপুরে ককটেল বোমার বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ এবং ককটেল তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে দুইজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আবারও উঠে আসে তার নাম।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জাজিরা, বিশেষ করে বিলাসপুর এলাকার বোমা সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে ইন্সপেক্টর মাঈনুল ইসলামের মতো একজন সাহসী ও দক্ষ কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তার কথা সভায় তুলে ধরেন শরীয়তপুর জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মনিরুজ্জামান খান দিপু।
গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় এডভোকেট মনিরুজ্জামান খান দিপু বলেন, জাজিরার বিলাসপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ককটেল বোমা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে, যার ফলে সারাদেশে জাজিরা ও শরীয়তপুর একটি নেতিবাচক পরিচয়ের সম্মুখীন হয়েছে।
তিনি বলেন, জাজিরা থানার সদ্য সাবেক ওসি ইন্সপেক্টর মাঈনুল ইসলাম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করায় দীর্ঘদিন এলাকা তুলনামূলক শান্ত ছিল। কিন্তু তার বদলির পরপরই আবারও ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী, রাসেল খাঁ ও তাজেল ছৈয়াল গ্রুপের লোকজন ককটেল তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে দুইজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এডভোকেট মনিরুজ্জামান খান দিপু আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে হলে বিলাসপুরসহ পুরো জাজিরার বোমা সন্ত্রাসী ও আওয়ামী দুর্বৃত্তদের শক্ত হাতে দমন করা জরুরি। সে জন্য এই মুহূর্তে ইন্সপেক্টর মাঈনুল ইসলামের মতো একজন সাহসী ও দায়িত্বশীল ওসি আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন।
সভা শেষে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের সঙ্গে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) রওনক জাহানসহ সভায় উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরাও একমত পোষণ করেন এবং ইন্সপেক্টর মাঈনুল ইসলামের কাজের প্রশংসা করেন।
এদিকে, জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির ওই সভায় উপস্থিত শরীয়তপুর জেলার একাধিক গণমাধ্যমকর্মী, জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও বিলাসপুরের বোমা সন্ত্রাস ও ইন্সপেক্টর মাঈনুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, বিলাসপুরসহ সারা জাজিরায় অপরাধ দমনে জরুরি ভিত্তিতে ইন্সপেক্টর মাঈনুল ইসলামের মতো সাহসী ও উদ্যোমী একজন কর্মকর্তার প্রয়োজন রয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় সম্ভব হলে তাকেই পুনরায় জাজিরা থানায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা। উল্লেখ্য, জাজিরা থানায় দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকার জন্য তিনি একাধিকবার ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে পুরস্কৃত হন।
প্রসঙ্গত, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে এবং সম্প্রতি পদ্মাসেতু এলাকা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডে জাজিরার বিলাসপুরে তৈরি ককটেল বোমা ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, বিলাসপুর থেকে আশপাশের ইউনিয়ন, উপজেলা এমনকি জেলার বাইরেও ককটেল বোমা তৈরি ও বিক্রির বিস্তার ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে গত বছর ইন্সপেক্টর মাঈনুল ইসলাম জাজিরা থানায় যোগদানের পর যুগের পর যুগ ধরে অশান্ত থাকা বিলাসপুর এলাকাকে অনেকটাই শান্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার হঠাৎ বদলির পর আবারও এলাকায় অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। যদিও বদলির পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছিল, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) রওনক জাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ক্রাইম অ্যান্ড অপস তানভীর আলম জানান, জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিলাসপুরের অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে ইন্সপেক্টর মাঈনুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “তিনি অনেক ভালো কাজ করেছেন—এটা সত্য। তবে কেউ কেউ তার সমালোচনাও করেন। আসলে অপরাধ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে সমালোচনা থাকবেই।”