
X
নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ শহীদ সারোয়ার। বর্তমানে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া বিস্ফোরক মামলায় কারাগারে থাকলেও, কারাগারে বসেই তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন সাবেক এমপি শাহ্ শহীদ সারোয়ারের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এর ফলে ময়মনসিংহ-২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রার্থিতার বৈধতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহ্ শহীদ সারোয়ারের ছেলে শাহ্ আকিব সারোয়ার। তিনি বলেন, “আমার বাবা একটি ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলার আসামি। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। তবে আমরা আশা করছি, তিনি শিগগিরই জামিনে মুক্ত হয়ে নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন।”
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে গত ২ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ শহীদ সারোয়ারের মনোনয়নপত্র তখন বাতিল করা হয়। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে শুনানি শেষে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া একই আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক চালানের মূল কপি ও মোট ভোটারের এক শতাংশ সমর্থনসূচক কাগজপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া বিস্ফোরক মামলায় জামিন পেতে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন শাহ্ শহীদ সারোয়ার। তবে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২৪ ও ২৮ ডিসেম্বর ধার্য করা জামিন শুনানিতেও আদালত তাকে জামিন না দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ রিকশাচালক আমীর হোসেন (৩১) শাহ্ শহীদ সারোয়ারসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে গত বছরের ১২ জুলাই ফুলপুর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়, যেখানে আমীর হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার দুই নম্বর আসামি শাহ্ শহীদ সারোয়ারের নেতৃত্বে তৎকালীন সরকারের অস্ত্রধারী লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান।
রাজনৈতিক জীবনে শাহ্ শহীদ সারোয়ার ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মরহুম এম. শামছুল হককে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করলেও তিনি পরাজিত হন। পরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
কারাগারে থেকেও প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া শাহ্ শহীদ সারোয়ারের ঘটনা ইতোমধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।