
X
চট্টগ্রাম শহরের নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দির সড়কে অবস্থিত ডিসি হিল দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকায় এর নান্দনিক পরিবেশ অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রতিদিন সকাল, বিকেল এমনকি সন্ধ্যায়ও শ্বাস নিতে ও হাঁটাহাঁটি করতে আসা নগরবাসী বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। তবে নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে ডিসি হিলে প্রাথমিক সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে।
পাহাড়ের চূড়ায় জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবন অবস্থিত হওয়ায় ডিসি নিজেই পরিবেশের অবনতির বিষয়টি নজরে আনেন। দ্রুত তিনি প্রাথমিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডিসি হিলকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অবকাঠামোতে সাদা ও লাল রঙের নতুন রঙের কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের অবহেলার পর এই সামান্য উন্নয়ন কাজেও ভীষণ খুশি নিয়মিত প্রাতভ্রমণে আসা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। তারা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ডিসি হিলে নিয়মিত প্রাতভ্রমণকারী সংগঠন শতায়ু অঙ্গনের পক্ষ থেকে একটি ব্যানারে লেখা হয়- ডিসি হিলকে নতুন রূপে প্রাণবন্ত করে তোলার মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় মাননীয় জেলা প্রশাসককে আন্তরিক অভিনন্দন।
‘ইয়োগা প্রভাতি’, ‘প্রভাতী আড্ডা’ ও ‘উজ্জীবন’ নামের বিভিন্ন সংগঠনও পৃথক ব্যানারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ‘ভোরের ডাক’-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান ভুঁইয়া বলেন, আগে ডিসি হিল ভাঙাচোরা ছিল, কোনো রঙ ছিল না। দেখতে বিশ্রী লাগত। এখন রঙ করা হচ্ছে, লাইটিং দেওয়া হচ্ছে—সব মিলিয়ে জায়গাটা অনেক সুন্দর লাগছে। ডিসি সাহেব শুধু পাহাড় নয়, আমাদের মনও আলোকিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আগে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ছিল না। এখন মানুষ ডিসি হিলে যেতে উৎসাহ পাচ্ছে। হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম করা মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে।
প্রাতভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘উজ্জীবন’-এর সভাপতি মিল্টন ঘোষ বলেন, ২০০৪ সাল থেকে আমরা এখানে হাঁটাহাঁটি করছি। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কোনো জেলা প্রশাসক এভাবে ডিসি হিল সাজানোর উদ্যোগ নেননি। তিনি ব্যতিক্রম। প্রশাসনে থেকে আমাদের মানসিকভাবে সহযোগিতা করায় তাকে ধন্যবাদ জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সারাদেশের অন্যতম প্রাচীন প্রাতভিত্তিক সংগঠন শতায়ু অঙ্গনের সভাপতি রুস্তম আলী বলেন, আগেও অনেক ডিসি এসেছেন, কিন্তু কেউ এই কাজ করেননি। এই ডিসি করেছেন—এটাই বড় কথা।
ডিসি হিল চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক স্থান। শহরবাসীর ভালোবাসা ও স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই পাহাড়। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে এখানে হাঁটাহাঁটি করলে মানুষ স্বস্তি ও মানসিক প্রশান্তি অনুভব করে।
ইতিহাস অনুযায়ী, ইংরেজ শাসনামলের শুরুতে এখানে চাকমা রাজার বাড়ি ছিল। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের বাসভবন স্থাপিত হওয়ায় পাহাড়টি ‘ডিসি হিল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে ডিসি হিলের চূড়ায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি বাসভবনও অবস্থিত।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, চলমান সংস্কার কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিসি হিল আবারও চট্টগ্রামের অন্যতম নান্দনিক ও প্রাণবন্ত প্রাতভ্রমণস্থল হিসেবে গড়ে উঠবে।