
X
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে রনিকে (৩৫) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতের মরদেহ সড়কে পড়ে থাকা অবস্থায় একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা এবং সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। ওই সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মী দাবি করেন। এ নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার গালাগাল ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে ধাওয়া দেওয়া হলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
এরপর কালিরহাট বাজারের উত্তর পাশে কাজী বাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে। সেখানে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি সড়কে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নিহত মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি পাওয়া গেছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, “আমরা আমাদের কার্যালয়ে বসে নির্বাচনী বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। এ সময় মিজান এলে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সে সেখান থেকে চলে যায়। এরপর কে বা কারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে গেছে—এমন খবর শুনেছি। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।”
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, “গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।