আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রংপুর–২৩ (মিঠাপুকুর–৫) আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। নিয়মিত উঠান বৈঠক, হাট–বাজারে প্রচারণা আর ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। তবে এবারের নির্বাচন গতানুগতিক ধারা ভেঙে রূপ নিচ্ছে এক হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমুখী লড়াইয়ে। একদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতার শক্ত অবস্থান, অন্যদিকে একই নাম ও একই পেশার দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী—সব মিলিয়ে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উত্তেজনা।
মিঠাপুকুরের নির্বাচনী মাঠে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—‘দুই অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী’। একজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী। অপরজন উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি এবং ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী। একই নাম ও একই পেশাগত পরিচয়ের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে প্রার্থীরা এখন প্রতীকের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন। ভোটারদের মুখে মুখে প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে মিঠাপুকুর?
সুসংগঠিত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও নারী ভোটারদের আস্থা জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীকে আপাতত কিছুটা এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং সুশৃঙ্খল প্রচারণা তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের দিকে ঝুঁকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীও লড়াই ছাড়তে নারাজ। দলটির কৌশল মূলত আওয়ামী লীগের একটি বড় ভোটব্যাংককে নিজেদের পক্ষে টানার ওপর নির্ভর করছে। বিএনপি সমর্থকদের বিশ্বাস, জামায়াতকে ঠেকাতে আওয়ামী ঘরানার ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ‘ধানের শীষ’-এ ভোট দিলে নির্বাচনের ফলাফল নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে এবং ব্যবধান হতে পারে আকাশ–পাতাল।
দেরিতে মাঠে নামলেও এই আসনের লড়াইকে ত্রিমুখী করে তুলেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী, শিল্পপতি আলহাজ এস এম ফখর-উজ-জামান (জাহাঙ্গীর)। দানশীল ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। একসময় জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের একটি নীরব ভোটব্যাংক এখনো বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, গত দুটি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, রংপুর–২৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৪৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৯৮৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটার ৩ হাজার ৬৩৭ জন বেশি।
মিঠাপুকুর উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন, “আমরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।”
সবশেষে বলা যায়, প্রতীকের লড়াই নাকি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার জয়—এই প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মিঠাপুকুরবাসী। চূড়ান্ত ফলই বলে দেবে, কোন সমীকরণে ভর করে নির্ধারিত হবে রংপুর–২৩ আসনের ভাগ্য।