ঘাটাইলে সরিষা ফুলে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত মৌচাষি

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলাও দেশের সব জায়গার মতো বইছে। শীত এলেই ঘাটাইলের কয়েকটি ইউনিয়নে আবাদ হয় সরিষা। মাঠ-প্রান্তর ঢেকে

2026-01-19T13:40:36+00:00
2026-01-19T13:40:36+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঘাটাইলে সরিষা ফুলে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত মৌচাষি
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪০ পিএম   (ভিজিট : ১৪৪)
X

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলাও দেশের সব জায়গার মতো বইছে। শীত এলেই ঘাটাইলের কয়েকটি ইউনিয়নে আবাদ হয় সরিষা। মাঠ-প্রান্তর ঢেকে যায় সোনালি সরিষা ফুলে। সেই ফুলের মিষ্টি সৌরভ আর মৌমাছির অবিরাম গুঞ্জনে এখন তৈরি হচ্ছে খাঁটি মধু। সরিষা খেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো মৌবাক্সে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত এই মধু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়িয়ে বিদেশেও।তারা শুধু সরিষা ফুল নয় মধু সংগ্রহ করতে দেশে বিভিন্ন প্রান্তে চষে বেড়ান বিভিন্ন ফুলের মৌসুমে।

ঘাটাইল উপজেলায় বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ৪ থেকে ৫ জন মৌচাষি সরাসরি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে সরিষা মৌসুম এলেই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ জন অভিজ্ঞ মৌচাষি এখানে এসে অস্থায়ীভাবে মৌবাক্স স্থাপন করেন। চলতি মৌসুমে সম্মিলিতভাবে তাদের লক্ষ্য ৩০ থেকে ৫০ টন খাঁটি মধু সংগ্রহ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিস্তীর্ণ সরিষা খেতের পাশে সারি বদ্ধভাবে মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বাক্সে রাখা হয়েছে একটি করে রাণী মৌমাছি। তার নেতৃত্বেই হাজারো শ্রমিক মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে রেণু সংগ্রহ করে তৈরি করছে খাঁটি মধু। এই আধুনিক পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মধুর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদনও বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। সরিষা ফুলের হলুদ মাঠ আর মৌমাছির গুঞ্জনে ঘাটাইলের গ্রামাঞ্চল এখন আর শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের ছবি নয় এটি হয়ে উঠছে সম্ভাবনাময় এক নতুন গ্রামীণ অর্থনীতির প্রতীক।

মধু চাষি সজিব তালুকদার বলেন, তিনি টানা চার বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মৌচাষের সঙ্গে যুক্ত। তার মালিকানায় বর্তমানে ১৫০টি আধুনিক মৌবাক্স রয়েছে, যা সরিষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ১ টন খাঁটি সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

তিনি আরও জানান, সরিষা ফুলের মধু স্বাদ ও গুণগত মানে আলাদা হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য দুটোই ভালো। পাশাপাশি মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষা ক্ষেতের ফলন বাড়ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি সুফল বয়ে আনছে।
এ বিষয়ে ন্যাশনাল এপিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি আবু হানিফ খান বলেন,“সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মৌচাষি রয়েছেন। বাংলাদেশের বার্ষিক মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৩০ হাজার টন। সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা, লিচু ও সুন্দরবনের মধু সবচেয়ে জনপ্রিয়। বছরে প্রায় ৬ মাস মধু সংগ্রহ করা হয়, এর মধ্যে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের সময়কাল প্রায় ২ মাস।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ঘাটাইল উপজেলা সরিষা ফুলের খাঁটি মধু উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পেতে পারে।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy