
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে প্রথবারের মতো কিনোয়া চাষ করে বাজিমাত করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার আব্দুল হান্নান। উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি এলাকায় প্রায় ১২ শতক জমিতে শখের বশে চাষ করেছেন তিনি। সুপার ফুড হিসেবে পরিচিত কিনোয়া চাষ হচ্ছে বাংলাদেশে গত কয়েক বছর আগে থেকেই। এ উপজেলায় একদম নতুুন এ ফসল।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে জানাযায়, সারিয়াকান্দিতে প্রায় ১২ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক চাষ হয়েছে । তবে ভালো ফলন দেখে কৃষক সন্তুষ্ট বলে জানায় কৃষি অফিস। রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর গবেষণার পর ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে কিনোয়া চাষ করা হয়।
বেলে ও দোআঁশ মাটিতে কিনোয়া চাষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত।
শীত মৌসুমে শর্ষের আবাদের সময় এটির চাষ শুরু হয়। তিন মাসের আগে-পরে ফসল কাটার উপযোগী হয়। শর্ষের মতো একই পদ্ধতিতে ফসল কাটা ও মাড়াই করা যায়। কিনোয়ার গাছ শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, কিনোয়া মূলত দক্ষিণ আমেরিকার ফসল। একমাত্র উদ্ভিজ্জ প্রোটিন উৎস, যাতে ৯ ধরনের প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড আছে। বিশেষত লাইসিন নামের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড আর কোনো উদ্ভিজ্জ আমিষ খাদ্য থেকে সেভাবে পাওয়া যায় না। আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ই ও ফাইবারের চমৎকার উৎস এই কিনোয়া।
কিনোয়া মূলত আমেরিকার ফসল। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী । তাই বৈশ্বিক বাজারে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।বাংলাদেশের বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। কম খরচে মাত্র ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে এ ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। এছাড়া অন্য ফসলের তুলনায় সময়ও কম লাগে।
কিনোয়া চাষী আব্দুল হান্নান বলেন,
আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার অবসরে গিয়েছি ৫ বছর আগে। ইউটিউব দেখে প্রথম কিনোয়া চাষ বিষয়ে জানতে পারি। ইউটিউব দেখেই আমি কিনোয়া চাষে উদ্বুদ্ধ হয়। পঞ্চগড়ের একজন কিনোয়া চাষী ভাইয়ের কাছে থেকে ২৫০ গ্রাম বীজ ২০০ টাকায় নিয়ে আসি। আমার ১২ শতক জমি চাষ করতে সকল খরচ মিলে ৬ হাজার টাকা হয়। এ জমি থেকে দেড় থেকে দুই মণ ফসল পাবো বলে আশা করছি। অল্প কিছু আমি নিজে খাওয়ার জন্য রাখবো আর বেশির ভাগ রাখবো বীজ হিসেবে। আগামী বছর আমার ২ থেকে ৩ বিঘা জমিতে করার ইচ্ছে রয়েছে। এই ফসলের গাছ শাক হিসেবেও খেতে ভালো লাগে আমি খেয়ে দেখেছি।
উপজেলার ঔষধের ব্যাবসায়ী আলমগীর বলেন ‘জমির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখে মনে হলো বতুয়ার শাক। এত বতুয়া শাক দিয়ে কী হবে? পরে দেখলাম গাছের মাথায় থোকায় থোকায় দানা ধরেছে। এটি নাকি কিনোয়া ফসল। আমি নিজেও চাষাবাদ করি এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি ফসলটি যদি লাভজনক হয়, তাহলে আমি আগামী বছর চাষাবাদ করবো।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, সারিয়াকান্দিতে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার আব্দুল হান্নান প্রথমবারের মতো কিনোয়া চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন। এ উপজেলায় এটি নতুন। আমরা ক্ষেত পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। আগামীতে আবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করবো। তিনি আরও বলেন, এটি একটি মেডিসিন উদ্ভিদ, ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপ কন্ট্রোল করে। এটি যেহেতু নতুন বাজার জাতে সমস্যা আছে। আমরা যদি বাজারটাকে ধরিয়ে দিতে পারি এবং বিভিন্ন সুপারশপে লিংক করে দিতে পারি তাহলে কৃষক লাভবান হবে এবং কৃষক কিনোয়া চাষে আগ্রহী হবে।