প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম (ভিজিট : ৪৭০)

X
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় অবস্থিত সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় পিরোজপুর জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী ধরে শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চায় বিশেষ অবদান রেখে আসছে।
আজ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ৬৩তম বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দত্ত। উদ্বোধনী দিনে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, বল নিক্ষেপসহ নানা ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ পুরো প্রাঙ্গণকে উৎসবমুখর করে তোলে।
খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা তুলে ধরলে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও অভিভাবকরা উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক ও মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দত্ত। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, বরং শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক দিক থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সেই পথেই এগিয়ে নিয়ে যায়।” তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, নেছারাবাদ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম। তাঁরা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও দেশপ্রেম গঠনে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিদ্ধার্থ শংকর মিস্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করে। তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক আনন্দঘন উৎসবস্থলে।