প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম (ভিজিট : ৫০০)

X
পাবনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলন হলেও লোকসানে দিশেহারা প্রান্তিক পর্যায়ের পেঁয়াজ চাষীরা।মৌসুমের শুরুতে আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষীরা প্রত্যাশার অধিক মূল্য পেলেও সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে কমতে শুরু করেছে বাজারদর। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাজারদর নেমে এসেছে অর্ধেকে। এতে লোকসানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকগণ। তাই পাবনার কৃষকগণ সরকারের কাছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানান ।
জানা যায়, পাবনার সুজানগর, সাঁথিয়া,বেড়া ও সদর উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে চলতি বছরে। কৃষি জমি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় দেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। এখানকার উৎপাদিত পেঁয়াজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী (ঢাকা) সহ দেশে ২৮-৩০টি জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে।যা জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তবে এবছর পেঁয়াজের আকস্মিক এই দরপতনে লোকসান আতংকে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পেঁয়াজ চাষীরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার তথ্যানুযায়ী এবছর জেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৯৬০ (১ হেক্টর=৭.৪৭ বিঘা) হেক্টর জমিতে। হেক্টর প্রতি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫.৮৮ মেট্রিক টন (বিঘাপ্রতি ৫৩.১৪ মণ)। কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রতিমণ পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ১,৪০০ টাকা (কেজি ৩৫ টাকা) যদিও সরকার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ দামে সার ক্রয় করায় কৃষকের খরচ হয়েছে আরও অনেক বেশি। গত ১ সপ্তাহের পাবনার সুজানগর, বেড়া, সাঁথিয়া ও কাশিনাথপুর হাঁট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাজারদর ১,২০০-১,৫০০ টাকা। যা উৎপাদন খরচের সমান।
সুজানগর উপজেলার চলনা গ্রামের কৃষক আফতাব প্রাং জানান, এবছর আমি ২ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপন করি।পেঁয়াজ রোপনের পর থেকে অনেকবার বিসিআইসি ডিলারের কাছে গিয়েছি তবে সার পাই নি। পরে বাধ্য হয়ে ২,২০০ টাকা বস্তা ডিএপি সার কিনতে হয়েছে,এতে উৎপাদন খরচ হয়েছে অনেক বেশি। বাজারের যা অবস্থা তাতে লোকসান গুণতে হচ্ছে।
সাঁথিয়া উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের একজন পেঁয়াজ চাষী জানান, আমরা (কৃষকরা) বিসিআইসি ডিলারের কাছে গিয়ে সার না পেয়ে অতিরিক্ত দামে সার কিনেতে হয়েছে । তাই দাম না বাড়লে লোকসানে পড়ে যাবো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, এবার আশানুরূপ ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সরবরাহ বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কমেছে। এছাড়া সার না পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।