প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪২ পিএম (ভিজিট : ৪২৮)

X
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ও নেছারাবাদ থানা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সন্ধ্যা নদীতে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী বেহুদী ও অন্যান্য ক্ষতিকর জাল অপসারণে বিশেষ কম্বিং অপারেশন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। চলমান এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন অংশে পরিচালিত অভিযানে মোট ৩৯ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১৪০টি চরঘরা এবং ৮টি বাধাজাল উদ্ধার করা হয়। এসব সরঞ্জাম অবাধে ব্যবহারের ফলে নদীর মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছিল এবং মৎস্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উদ্ধারকৃত কারেন্ট জাল, চরঘরা ও বাধাজাল আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়। এ সময় নেছারাবাদ মৎস্য দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান এবং থানা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জব্দকৃত সব অবৈধ জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
মৎস্য দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জাল ব্যবহারের ফলে ছোট ও প্রজননক্ষম মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ছে, যা নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ কারণে সরকার ঘোষিত বিধি অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই উচ্ছেদ কার্যক্রম আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও নদী ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিয়মিত অভিযান চলমান থাকলে সন্ধ্যা নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।