মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এক শ্রেণির অসাধু খুচরা ব্যবসায়ী কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করে সিলিন্ডার গ্যাস ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা বিক্রি করছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দেড়গুণ বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। আবার অতিরিক্ত দামেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার। অনেক পরিবার গ্যাসের অভাবে রান্না করতে পারছে না।
আমদানি না হওয়ার কথা বলে ডিলাররা তাদের গোডাউন বন্ধ করে রেখেছেন। ভোক্তরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন কিংবা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো কার্যকর তদারকি চোখে পড়েনি। ফলে এ সুযোগ নিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত বছরের ২ ডিসেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ভোক্তা পর্যায়ে এলজিপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দেয়। সেখানে বলা হয়, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১২৫৩ টাকা, সাড়ে ১২ কেজি ১৩০৫ টাকা, ১৫ কেজি ১৫৬৬ টাকা, ১৮ কেজি ১৮৮০ টাকা, ২২ কেজি ২২৯৮ টাকা এবং ৩০ কেজি ৩১৩৩ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করা যাবে না। অথচ ঘিওরে সেই নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন নেই । কয়েকদিনের ব্যবধানে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন চড়া দামে গ্যাসের সিলিন্ডার খুচরা বিক্রি করেন। দোকানগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্যাস সরবরাহ সীমিত বা বন্ধ করে দিচ্ছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দোকানিরা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত দাম দিয়েও ডিলারদের কাছ থেকে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন তা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। দোকানে গ্যাস চাইলে বলে-নেই। অতিরিক্ত দামে গোপনে একেক দোকানে একেক রকম দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে গ্যাস কিনছে। বসুন্ধারা, ওমেরা, বেক্সিমকো, টোটালসহ কোম্পানির গ্যাস অনেক দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। অতিরিক্ত দামের কারণে দোকানদার ও ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায় বাগবিতন্ডা ও ঝামেল হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘিওর বাজারের সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রেতাদের মূল্য তালিকা টানানো নেই। বিক্রীত গ্যাসের কোনো ধরনের ক্যাশমেমো দেওয়া হয় না। এদের দেখভালোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বাজার মনিটরিং এবং সঠিক তদারকি না থাকায় এদের কাছে সাধারণ লোকজন জিম্মি হয়ে পড়েছে। ঘিওর থানা মোড়ে ২টি, বাসট্যান্ডে ১টি, গরুহাটায় ১টি, গোলাপনগরে ২টিসহ ঘিওর, সিংজুরী, বড়টিয়া, বানিয়াজুরী, বালিয়াখোড়া ও নালী ইউনিয়নে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ডিলাররা সরকারের নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা করছেন না। ফলে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ানোর আশায় সরবরাহ না করে তাদের গোডাউনে বন্ধ করে রেখেছেন। ঘিওর বাজারের গৃহিণী রাশেদা বেগম বলেন, গ্যাস না পেয়ে ফিরে এসেছি। তাই মাটির চুলাতে লাকড়ি দিয়ে রান্না করছি। লাকড়ির দামও বেড়ে গেছে। প্রতিমণ লাকড়ির দাম ৪০০ টাকা। অথচ এক মাস আগে ২৫০ টাকা প্রতি মণের দাম ছিল।
বেসরকারি চাকরিজীবী জয়নাল বলেন, সীমিত আয়ে সংসার চালাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপর গ্যাস ব্যবসায়ীরা এভাবে যদি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে তাহলে ধারদেনা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারে একজন ব্যবসায়ী জানান, ডিলারদের গোডাউনে পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে। এর পরেও নানা অজুহাতে বেশি দামে বিক্রি করছেন। যার ফলে আমরা সিলিন্ডার প্রতি পাঁচ থেকে সাতশ’ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছি।
মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকারের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুর রহমান রুমেল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মানিকগঞ্জে ২ ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এর পরেও ঘিওরে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই নিয়ে জনমনে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। তবে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।