সেচ সংকটে আজমিরীগঞ্জে বোরো আবাদ অনিশ্চিত ৬০০ একর জমির চাষ

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার এক নম্বর সদর ইউনিয়নের বিরাট ভাটিপাড়া নোয়াবন সেচ প্রকল্পের আওতায় ভয়াবহ

2026-01-22T11:23:35+00:00
2026-01-22T11:26:38+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সেচ সংকটে আজমিরীগঞ্জে বোরো আবাদ অনিশ্চিত ৬০০ একর জমির চাষ
ক্ষতির আশঙ্কা ৪০ কোটি টাকা
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৩ এএম  আপডেট: ২২.০১.২০২৬ ১১:২৬ এএম  (ভিজিট : ১৬৩)
X

চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার এক নম্বর সদর ইউনিয়নের বিরাট ভাটিপাড়া নোয়াবন সেচ প্রকল্পের আওতায় ভয়াবহ কৃষি সংকট দেখা দিয়েছে।

বোরো আবাদ শুরুর উপযুক্ত সময় পার হলেও সেচের পানি না থাকায় কৃষকেরা জমিতে চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না। ওই সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬০০ একর আবাদযোগ্য জমি অনাবাদি হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সময়মতো আবাদ করা না গেলে এ এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার ফসল ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এতে শুধু কৃষকরাই নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা জানান, বর্তমানে বোরো আবাদের উত্তম সময় দ্রুত অতিক্রম হচ্ছে। অথচ এখন পর্যন্ত সেচ পাম্প বসানোর স্থান নিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের আশঙ্কা, বিরোধ নিষ্পত্তি হয়ে পাম্প বসাতে বসাতে রোপণের উত্তম সময় পার হয়ে যাবে। এরপর জমিতে পানি এলেও কৃষকেরা আরও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিএডিসির আওতায় ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ওই ঠিকাদার পানির কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি। টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এলাকায় কোনো সেচ পাম্প বা মেশিন স্থাপন করা হয়নি।

এদিকে সেচ পাম্প বসানোর নির্ধারিত স্থানটি এক পক্ষ তাদের মালিকানাধীন ভূমি দাবি করে সেখানে পাম্প বসাতে বাধা প্রদান করছে। ফলে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, একাধিকবার প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছে দ্রুত সেচ পাম্প স্থাপনের তাগিদ দেওয়া হলেও তিনি বিষয়টি কোনোভাবেই আমলে নিচ্ছেন না। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ওই হাওরের কৃষক হাবুল মিয়া জানান, তিনি ৮ কিয়ার বোরো জমি ৪০ মন ধানের বিনিময়ে ইজারা নিয়েছেন। জমিতে আবাদ করার জন্য তিনি প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ করে বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে তিনি এখনো জমিতে চারা রোপণ করতে পারছেন না। বর্তমানে তাঁর বীজতলার বয়স দুই মাসেরও বেশি হয়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, এই চারা দিয়ে এখন রোপণ করলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না।

অন্যদিকে কৃষক আলমগির মিয়া, রকিব মিয়া ও হুসেন মিয়া জানান, বর্তমানে বোরো আবাদের সময় প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন পানি এলেও জমিতে যে পরিমাণ খরচ হবে, সে অনুপাতে ফসল পাওয়া যাবে না। তাঁদের ভাষায় “এখন পানি এলে সেচ প্রকল্পের চুক্তি, জমির ইজারা, ধান রোপণ, কীটনাশক ও সারসহ সব ধরনের খরচ দিয়ে আমাদের ভাগে জুটবে লোকসান।”

এদিকে কৃষিশ্রমিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা জানান, বোরো মৌসুমে বিভিন্ন কৃষকের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে যে আয় হয়, তা দিয়েই তাঁদের পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা চলে। কিন্তু এবার আবাদ বন্ধ থাকায় কাজ নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী হাওরগুলোতে পুরুদমে বোরো আবাদ ও চাষাবাদের কর্মযজ্ঞ চললেও তাঁদের এলাকায় বোরো জমি আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন বলেন, সম্প্রতি জানতে পেরেছি এক নম্বর সদর ইউনিয়নের বড় একটি অংশে সেচের পানি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে বিএডিসি সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবো।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy