চিকিৎসক সংকটে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকটে চরমভাবে ব্যাহত

2026-01-22T17:39:51+00:00
2026-01-22T17:39:51+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
চিকিৎসক সংকটে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম   (ভিজিট : ১৬৮)
X

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। জনবল স্বল্পতার কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে চার একর জমির ওপর আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালে ৩১ শয্যা থেকে উন্নীত করে ৫০ শয্যায় রূপান্তর করা হয়। ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় দুই লাখ মানুষের পাশাপাশি পাশের কলাপাড়া, গলাচিপা ও বরগুনা সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষও এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালে মোট ২২ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুইজন। অর্থাৎ ২০টি চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৬টি পদের বিপরীতে ৭টি, তৃতীয় শ্রেণির ৮২টি পদের বিপরীতে ৩২টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২২টি পদের বিপরীতে ১০টি পদ শূন্য রয়েছে।

শূন্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে রয়েছে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু, অর্থোপেডিক্স, কার্ডিওলজি, চক্ষু, ফিজিক্যাল মেডিসিন, ইএনটি, চর্ম, অ্যানেসথেশিয়া, সার্জারি, গাইনি ও মেডিসিন), আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও), সাতজন মেডিক্যাল অফিসার, ডেন্টাল সার্জন, নার্সিং সুপারভাইজার, ছয়জন সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ বিভিন্ন কারিগরি ও সহায়ক পদ। এসব পদের অনেকগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্যত্র প্রেষণে থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম আরও ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ২০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হন। কিন্তু চিকিৎসক ও নার্সের অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় রোগীদের সেবা দিতে মারাত্মক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

এদিকে চিকিৎসক ও অ্যানেসথেশিস্ট না থাকায় হাসপাতালে সিজারিয়ান কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে গর্ভবতী নারীদের জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য বরগুনা সদর বা অন্য জেলায় যেতে হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে চারজন চিকিৎসক পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে, তারা শিগগিরই যোগদান করবেন। সিজারিয়ান কার্যক্রম চালু করার বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব, যাতে দ্রুত এই সেবা শুরু করা যায়।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দিয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান স্বাভাবিক করা হোক, নইলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy