
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় আনিস (৩৮) নামে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সুফিয়া আক্তার নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিহত আনিসের সঙ্গে অভিযুক্ত সুফিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং পারস্পরিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরের অক্সিজেন এলাকার লোহারপুল সংলগ্ন একটি খাল থেকে আনিসের মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এরও আগে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে তার দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলোর মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর জানান, গত মঙ্গলবার থেকে আনিস নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার দেহাংশ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু হলে পর্যায়ক্রমে মরদেহের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া সুফিয়া আক্তারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিহত ব্যক্তি মো. আনিস, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিকদাইর এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে সুফিয়া আনিসকে ডেকে নেন। সেখানে প্রথমে শিল-পাটা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে নগরের বিভিন্ন খালে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আনিস সুফিয়াকে প্রায় দুই লাখ আশি হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত চাইলে ক্ষুব্ধ হয়ে সুফিয়া তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন।
অন্যদিকে, সুফিয়ার স্বজনদের দাবি, আনিস তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।