
X
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে অস্ত্র মজুদের অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। সোনারগাঁওয়ে অস্ত্র কেনাবেচা ও মজুদের আলোচনা সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা বজলুর রহমান ওরফে ‘ডন বজলু’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড এলাকা থেকে ডন বজলুল রহমান ওরফে ডন বজলু তিন সহযোগীসহ আটক করা হয়।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ভাইরাল ভিডিও, গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—সোনারগাঁওয়ের একটি রেস্টুরেন্টে বৈঠককালে বজলুর রহমানের পাশে বসা এক ব্যক্তি তাকে নির্বাচন সামনে রেখে আরও অস্ত্র সংগ্রহের কথা বলেন। ওই ব্যক্তি পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী জাকারিয়া বলে পরিচিত। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই শুরু করে র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব-১১ জানায়, ডন বজলুর সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন— ইউনুস ওরফে বাদল (২০), সাইদুল (৩৪), আব্দুল জব্বার (৪২)।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, ডন বজলু দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বহিষ্কৃত এই নেতা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বুধবার দুটি আসনেই তিনি ফুটবল প্রতীক বরাদ্দ পান। এরপর থেকেই ডন বজলু প্রকাশ্যে তার পক্ষে কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আগেই বিএনপি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
সোনারগাঁও ও বন্দর উপজেলার বাসিন্দারা জানান, ডন বজলু দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখল ও সহিংসতার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের জুন মাসে বন্দর উপজেলার হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুলকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন তিনি। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাসহ তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার কোনো অপচেষ্টা দল সমর্থন করে না। কেউ সহিংসতা বা অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে জড়ালে আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি—কিন্তু কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসীর দায় আমি নেব না। কেউ আইন ভাঙলে তার দায় তাকেই নিতে হবে।”
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল্লাহ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুর বিরুদ্ধে সোনারগাঁ, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এলাকায় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি জমি দখলসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।