
X
ভোলায় কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দখলদার কিংবা সন্ত্রাসীদের থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, “আমার বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর কোনোদিন মানুষের সঙ্গে অন্যায় করেননি। আমিও কখনো অন্যায় করব না—এই কথা আপনাদের কথা দিয়ে গেলাম।”
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভোলার নতুন বাজারে বাংলাদেশ বিজেপির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পথসভায় বক্তব্যে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, “এবার মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আমাকে আপনাদের খেদমত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি ভোলাকে সিঙ্গাপুর বানাতে না পারলেও, ভোলার মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়—সেই ব্যবস্থা করবো।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো হিংসা-বিদ্বেষে বিশ্বাস করি না। বিএনপি ও বিজেপি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। কারও সঙ্গে মারামারি, হানাহানি নয়। হাতপাখা ও দাঁড়িপাল্লাসহ ভোলা সদর আসনে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিভেদ নেই। আসুন, সবাই মিলে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য ভোলা গড়ে তুলি।”
২০০৮ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুরের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া আমাকে ভোলার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছিলেন। তখন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে। সেই সময় ভোলায় টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি ও চর দখলসহ নৈরাজ্য চলেছিল। আমি বিরোধী দলের এমপি হিসেবে শেখ হাসিনার চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করেছি, যা অন্য অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।”
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে দেশ নতুন করে আবার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আমি আপনাদের একজন প্রার্থী। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে ভোলাকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যমুক্ত করবো—ইনশাআল্লাহ।”
বিএনপি ও বিজেপির ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি-বিজেপি ভাই ভাই—ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আমি যদি এমপি হতে পারি, তাহলে বিএনপির প্রবীণ নেতা আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর চাচাকে মুরব্বি হিসেবে সম্মান দিয়ে কাজ করবো। তার দোয়া নিয়েই আমি ভোলার মাটিতে পা রেখেছি।”
তিনি আরও বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা তাকেই ভোট দেবেন, যে ভোলার জন্য মেডিকেল কলেজ ও ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়নে কাজ করতে পারবে এবং ভোলাকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সক্ষম হবে।”
পথসভা শেষে তিনি সবাইকে বিভেদ ভুলে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।