
X
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।
চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকায় আয়োজিত এক সভা থেকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এই সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরু মিজি।
সভাটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম খান ও পৌর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মো. ফেরদৌস খান।
বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় পার্টি এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাতীয় পার্টির নেতারা আরও বলেন, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ এবং এলাকার উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন- এই বিশ্বাস থেকেই দলীয়ভাবে তাকে সমর্থন জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির জেলা ও পৌর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যায় উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস, যা নির্বাচনী মাঠে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পার্টির এই সমর্থনের ফলে চাঁদপুর-৩ আসনের ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক ধানের শীষের দিকে ঝুঁকে পড়লে নির্বাচনের ফলাফলে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জাতীয় পার্টির এই সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি জনগণের বিজয়ের পথে একটি শক্তিশালী বার্তা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের মাধ্যমে এই আসনে পরিবর্তনের পক্ষে জনমত আরও সুসংহত হবে।
সব মিলিয়ে, জাতীয় পার্টির এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে চাঁদপুর-৩ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সমর্থন ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত কার দিকেই ঝুঁকে পড়ে ভোটারদের রায়।