
ভালুকায় নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ও হবিরবাড়ি এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষ রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। পরে যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের নিশিন্দা বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে লিফলেট বিতরণ করছিলেন তার সমর্থকরা। এ সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন বাচ্চুর সমর্থকরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরপর দ্রুতই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ছাত্রনেতা আদি খান শাকিলের অফিসেও আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভালুকা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ ফিরোজ হোসেন জানান, “ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
এদিকে সংঘর্ষে আহতদের দেখতে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফখরউদ্দিন আহমেদ, ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।