সারিয়াকান্দিতে দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ ইউনিয়ন কৃষি তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৫ ইউনিয়নে 'কৃষকের তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র' (ফিয়াক) সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রগুলো থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেনা কৃষকেরা। এতে যেকোন তথ্য ও পরামর্শ জন্য কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিসে যেতে হচ্ছে।

2026-01-26T16:48:12+00:00
2026-01-26T16:48:12+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সারিয়াকান্দিতে দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ ইউনিয়ন কৃষি তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪৮ পিএম   (ভিজিট : ৩০)
X

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৫ ইউনিয়নে  'কৃষকের তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র' (ফিয়াক) সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রগুলো থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেনা কৃষকেরা। এতে যেকোন  তথ্য ও পরামর্শ জন্য কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিসে যেতে হচ্ছে। 

'ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি' প্রজেক্ট (এনএটিপি) প্রকল্পের আওতায় এই কৃষকের তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় এ থেকে সহযোগীতা না পেয়ে সময় ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। তবে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রগুলো খোলা না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন তারা। 

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, কৃষি, প্রাণী সম্পদ ও মৎস্য নিয়ে সমন্বিতভাবে এ প্রকল্পটি শুরু হয়। প্রাণী ও মৎস্য প্রকল্পের মেয়াদ না থাকায় ইউনিয়নের ফিয়াক সেন্টারগুলো থেকে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু কৃষি অধিদপ্তর পার্টনার প্রকল্পের আওতায় কৃষির কার্যক্রমটি চালু রেখেছে। বিকাল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত পরামর্শ দেওয়ার জন্য ফিয়াক সেন্টারে একজন উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা থাকবে।  কিন্তু  সেটা শুধু খাতা কলমে থাকলেও বাস্তবে অফিস ঘরগুলো বছরের পর বছর বন্ধই থাকে সেখান থেকে কোন সেবাই পায়না সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের কৃষকেরা। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এবং প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য অধিদপ্তরের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে বরাদ্দকৃত দুইটি কক্ষ থেকে 'ফিয়াকের' সকল কার্যক্রম চালানো হয়। প্রতিটি ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) একাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে ফিয়াক সেন্টার আছে সেগুলো হলো, সারিয়াকান্দি সদর, হাটফুলবাড়ি, নারচী, ভেলাবাড়ি, কুতুবপুর। ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকেরা যেনও উপজেলার কৃষি অফিসে গিয়ে সময়ের অপচয় না করে এ উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষি অধিদপ্তর এ উদ্যোগ নেয়। কৃষকের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা নিয়ে যাওয়া একজন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার ফিয়াক সেন্টারে দুপুর ২ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত থাকবে।

এখান থেকে সে প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ, সার এবং চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিবেন। এছাড়াও ফসলের রোগ বা পোকা আক্রমণের তাৎক্ষণিক সমাধান এবং প্রতিকার নিশ্চিত করবে।

মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই কৃষির বিষয়ে সচেতন করতে ফিয়াক সেন্টার গুলো কাজ করে যাবে। কৃষকের জন্য এ সেবা কার্যক্রম হবে এমন একটি ব্যাবস্হা যা সকল শ্রেণির কৃষকদেরকে তাদের দোরগোড়ায় ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক নানাবিধ চাহিদা পুরনে সহায়ক হবে। একটি ইউনিয়নের সকল কৃষক একই স্থানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সব ধরনের সেবা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাবে। 

সরজমিনে গিয়ে স্হানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পর্যায়ে যে কৃষি সেবা দেওয়ার জন্য ফিয়াক সেন্টার নামে কোন কিছু আছে তারা সেটা জানেই না। গত রবিবার (২৫ জানুযারি) বিকাল ৩ টায় নারচী ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সচিবের সাথে কথা বললে তিনি দোতলায় একটি কৃষি অফিস আছে বলে দেখিয়ে দেন। দোতলায় গিয়ে দেখাযায় পাশাপাশি দুইটি রুম তালা বন্ধ অবস্থায় পরে আছে। তালায় জং দেখে বোঝায় যায় এ সেন্টার গত কয়েক বছর হলে খোলা হয়নি। 

নারচী ইউনিয়নের তরফদার পাড়ার একজন কৃষক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ফিয়াক সেন্টার আছে এটা আমার জানা নাই। তবে কৃষি অফিস লোকজন মাঠে আসে আমাদের কোন দরকার লাগলে ফোন দিলে তারা এসে সমস্যার সমাধানের উপায় বলে দেয়। 

কয়েক জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমরা সবসময় কৃষকের পাশে থাকি। কৃষকের যেকোনো সমস্যার কথা শুনলে সেখানে ছুটে গিয়ে সমাধান করি। ফিয়াক সেন্টারে বিভিন্ন কারণে বসে হয়ে উঠে না। হাটফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের যে ফিয়াক সেন্টার সেটার গেটে তালা দেওয়া থাকে এ কারনে ইচ্ছে করলেও সেখানে আমরা বসতে পারি না। নারচী ইউনিয়ন পরিষদের ফিয়াক সেন্টারের উপ-সহকারী কৃষি অফিসারেরা জানান, তারা মাঝে মধ্যেই ফিয়াক সেন্টারগুলো খোলেন। 

ফুলবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ারুত তারিক বলেন, আমার ইউনিয়ন পরিষদে একটি ফিয়াক সেন্টার আছে। তাতে কোনো কর্মকর্তা আসে না ওটা সবসময় তালা বন্ধ অবস্থায় থাকে। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, একটি ইউনিয়নে কৃষির ব্লক ৩ টি উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আছে ২ জন করে। ফিয়াক সেন্টার গুলোতে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের বসার নিয়ম আছে। কিন্তু তারা মাঠে কাজ করে হয়তো বসতে পারেনা। এখন আমি সবাইকে বলেছি তারা যাতে নিয়মিত ফিয়াক সেন্টার গুলোতে বসে।




  বিষয়:   সারিয়াকান্দি  তালাবদ্ধ  ইউনিয়ন কৃষি তথ্য 



Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy