প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম (ভিজিট : ২৫১)

X
বরগুনার তালতলী উপজেলায় মামার শ্যালিকা (মাসি) টুম্পার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক পরিবার মেনে না নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বাধীন (১৬) নামে এক কিশোর ঘরের বারান্দায় আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ঘর থেকে কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার বাধঘাট এলাকার নানির বাসা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত স্বাধীন উপজেলার তালতলী পাড়া এলাকার প্রদীপ দাসের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্বাধীন নিজ ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যায় নানি কিরন বালা বাড়িতে এসে নাতিকে ডাকেন। কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
পরে লাঠি দিয়ে দরজা খুলে ঘরের সামনের বারান্দায় স্বাধীনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
নিহতের মা কাকলী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে স্বাধীনের সঙ্গে আমারই ভাইয়ের শালিকা টুম্পা রানীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমরা বিষয়টি মেনে নিতে পরিনি। কারণ মাসি (খালা) তো মায়ের সমান তার সাথে কেন প্রেম থাকবে। বিষয়টি জানতে পেরে আমি ছেলেকে একাধিকবার নিষেধ করেছিলাম। এর পরেও টুম্পা মানসিক চাপ সৃষ্টি করায় স্বাধীন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
কিরন বালা বলেন, আমি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসায় এসে স্বাধীনকে ডাকলাম, কিন্তু কোনো সাড়া পেলাম না। পরে দরজা খুলে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেলাম। ঘটনা জানার পর আমি চিৎকার করি, আশেপাশের লোকজন এসে সাহায্য করে। আমি আর কিছু বলতে পারি না।
তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাবে।