
X
নীলফামারীর সৈয়দপুরে যখনই কোনো নির্বাচন আসে তখনই এখানকার ২২টি উর্দুভাষী (বিহারি) ক্যাম্পবাসী ভোটারদের কদর বেড়ে যায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের। অনেক বছর থেকেই বিশেষ করে পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উর্দূভাষীদের ভোটব্যাংক বিশেষ ভুমিকা রাখে। সৈয়দপুরে শুধু উর্দূভাষীদের ভোটই ৬০ হাজারের মতো।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। এ আসনের বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, চরমোনাই পীর, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মনোনীত প্রার্থীরাসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা আর নানা প্রতিশ্রুতিতে ভরা বক্তব্যে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও গণ-সংযোগ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নীলফামারীর ৪টি আসনের মধ্যে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে প্রতিবারের মতো এবারও অবাঙালি (বিহারি) ভোটারদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা তাদের নিজের দিকে টানতে নতুন-নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। সভা-সমাবেশে বাংলার পাশাপাশি বক্তব্য রাখছেন উর্দুতে। ওই ভাষাতেই করছেন কুশল বিনিময়।
সূত্র মতে, অ-বাঙালিদের মধ্যে একটি অংশ ১৯৪৭ সালে ভারত থেকে এসে সৈয়দপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। অন্যরা স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে এখানকার ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। স্থায়ীভাবে বসবাসকারীরা প্রথম থেকে ভোটার থাকলেও ক্যাম্পে বসবাসকারীরা ভোটার হন ২০০৮ সালে। বর্তমানে সৈয়দপুর পৌরসভার মোট ভোটারের অর্ধেকই প্রায় ৬০ হাজার অবাঙালি ভোটার। এর ফলে উর্দুভাষী ভোটার জয় পরাজয়ের নির্ধারক হিসেবে কাজ করেন।
অবাঙালিরা বলছেন, দীর্ঘসময় ধরে তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন। খাদ্য চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত হয়। তবে নির্বাচনের আগে কথা দিলেও কথা রাখেনা কেউ। এবার যে তাদের উন্নয়নে কাজ করবেন তাকে ভোট দিবেন।
দূর্গামিল সংলগ্ন ক্যাম্পের মোহাম্মদ আলী বলেন, ভোট এসেছে বলে এখন প্রতিদিন বিভিন্ন প্রার্থীর আনা-গোনা লেগেই রয়েছে ক্যাম্পে। আমরা বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হলেও তাদের পাশে পাইনা। বালুজে ক্যাম্পের বাসিন্দা রাশেদ বাবুল জানান, ভোট দিতে যাবো তবে ভোট দিবো এমন ব্যক্তিকে যিনি আমাদের ক্যাম্পের জন্য ভালো কিছু করবেন। আমরা দীর্ঘসময় ধরে অবহেলিত হয়ে আছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাতিখানা ক্যাম্পের ক’জন জানান, আমরা প্রতি নির্বাচনে ভোট দেই তবে যে, আশা নিয়ে ভোট দেই সেটা পুরণ হয়না। আমরা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমাদের উন্নয়ন করার মতো যাকে মনো হবে তাকে ভোট দিব।
এবারে এ আসনে স্বতন্ত্র ও দলীয়সহ মোট ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এনারা হলেন-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকার (ধানের শীষ প্রতিক), জামায়াতে ইসলামীর হাফেজ মোহাম্মদ মুনতাকিম (দাঁড়ি পাল্লা প্রতিক), জাপার প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম (লাঙ্গল প্রতিক), পীর চরমোনাই মনোনীত প্রার্থী মোঃ শহীদুল ইসলাম (হাতপাখা প্রতিক), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মির্জা শওকত আকবর রওশন (কাঁঠাল প্রতিক), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল মার্কসবাদীর প্রার্থী মোঃ মাইদুল ইসলাম (কাঁচি প্রতিক), স্বতন্দ্র প্রার্থী জোবায়দুর রহমান হীরা (ঘোড়া প্রতিক), বিএনপির বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম মামুনুর রশিদ (মোটরসাইকেল প্রতিক) এবং বিএনপির বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ রিয়াদ আরফান সরকার রানা (ফুটবল প্রতিক)।