প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২১ পিএম (ভিজিট : ১৭২)

X
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গ্রাফিতি ও বিদ্রোহী দেয়াল অঙ্কন করেন। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে পবিপ্রবির শাখা ছাত্রশিবির।
টানা তিন দিনের প্রচেষ্টায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মধ্যরাতে গ্রাফিতির কাজ শেষ করা হয়। এর আগে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের দেয়ালে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়। গ্রাফিতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান লেখেন। স্লোগানগুলোতে লেখা হয়— ‘Justice for Hadi’, ‘আমি চির বিদ্রোহী বীর—বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা… চির উন্নত শির!’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা ঢাকা’, ‘জন্মভূমি অথবা মৃত্যু’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওহিদুজ্জামান শাওন বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ইনসাফের রাজনীতি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে খুন করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আঘাত করেছে। কিন্তু হাদিকে শহীদ করে তাঁর বিপ্লবকে থামিয়ে দিতে পারেনি। শহীদ হাদির বিপ্লবী আদর্শ দেশের প্রত্যেকটি প্রান্তরে পৌঁছে গেছে। হাদির ইনসাফের রাজনীতি পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সহযোগিতায় গ্রাফিতিগুলো অঙ্কন করেছি।”
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ শুক্রবার সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হলে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে ১৬ ডিসেম্বর সরকারের উদ্যোগে তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। দুই দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পবিপ্রবির ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম জীবন বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা ও অগ্রনায়ক। ওসমান হাদি ইনসাফের লড়াইয়ে নিজের জীবন দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক হিসেবে বাংলার মানুষের বুকে অমর হয়েছেন। বাংলাদেশের নতুন ধারা প্রতিষ্ঠার সূচনা করে গেছেন। শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে পবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এবং পবিপ্রবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের অর্থায়নে টিএসসির দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন করছি, যাতে শহীদ ওসমান হাদির মতো ইনসাফের লড়াইয়ে শিক্ষার্থীরা অগ্রগামী হয়।”