
X
১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় জোটের শীর্ষ নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামী নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘নোয়াখালী বিভাগ’ ও ‘সিটি কর্পোরেশন’ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
শুক্রবার সকালে নোয়াখালী জেলা স্কুল ময়দানে আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ উপচে আশপাশের সড়ক ও অলিগলিতে ভিড় ছড়িয়ে পড়ে।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালীর উন্নয়নের জন্য ৬টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন: ১. নোয়াখালী বিভাগ প্রতিষ্ঠা। ২. সিটি কর্পোরেশন গঠন। ৩. হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচরের নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা। ৪. কোম্পানীগঞ্জ-ছোট ফেনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ। ৫. সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ। ৬. সুবর্ণচরের নির্যাতিতা মায়ের সম্মানে সেখানে পৌরসভা গঠন।
নোয়াখালীর মানুষের প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশ নেই যেখানে নোয়াখালীর মানুষ নেই। এই অঞ্চলের আলেম-ওলামারা সারা দেশে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। আপনারা লড়াকু ও গর্বিত এলাকার মানুষ।”
তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। সরকারি কর্মচারীদের জন্য এমন পে-কমিশন গঠন করা হবে যেন কাউকে টেবিলের নিচে হাত দিতে না হয়। তবে এরপরও কেউ অসততার পথ বেছে নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জুলাই আন্দোলনের যুবসমাজ ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখার জন্য মুখিয়ে আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জনসভায় নোয়াখালীর ৬টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীক: মাওলানা সাইফুল্লাহ (নোয়াখালী-১), মাওলানা বোরহান উদ্দিন (নোয়াখালী-৩), মো. ইসহাক খন্দকার (নোয়াখালী-৪) এবং বেলায়েত হোসেন (নোয়াখালী-৫), শাপলা কলি প্রতীক (এনসিপি): সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া (নোয়াখালী-২) ও আব্দুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬)।
ডা. শফিকুর রহমান কর্মীদের সকল মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগামী ১২ তারিখ দুটি ভোট হবে। প্রথমটি সংস্কার ও আজাদির পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট, আর দ্বিতীয়টি হবে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে।”
নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ও নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ খান প্রধানসহ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, লেবার পার্টি, এলডিপি ও এনসিপির জেলা নেতৃবৃন্দ।