
X
বগুড়ায় বিশাল জনসভায় তারেক রহমান
গত ১৫ বছরে শুধু বগুড়া নয়, পুরো বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়েছে। তথাকথিত মেগা প্রকল্পের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি। এই দুর্নীতিকে টুঁটি চেপে ধরতে হবে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে”—আবেগভরা কণ্ঠে এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজ পিতৃভূমি ও নির্বাচনী এলাকা বগুড়ায় বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়ায় ফিরে লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তারেক রহমান।
তিনি বলেন,
এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন ঠিক করে দেবে, বাংলাদেশ মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার পাবে কি না। আগামী দিনে দেশ কোন পথে চলবে, তার দিকনির্দেশনাও দেবে এই নির্বাচন। দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিতে হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।”
মধ্যরাতের এই জনসভা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। নামে জনতার ঢল।
বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ছাড়িয়ে সাতমাথা, আশপাশের সড়ক ও অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ঢল।
বিকাল থেকেই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য, তার মুখ থেকে কথা শোনার জন্য জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরের পর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল শহরকে মিছিল নগরীতে পরিণত করে। ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
রাতে তারেক রহমান পিতৃভূমি বগুড়ায় এসে সরাসরি জনসভায় যোগ দেন। তার আগমনের খবরে জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে মানুষের ঢল নামে।
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা ও আবেগ। নিজ নির্বাচনী এলাকায় এটিই তারেক রহমানের জন সভা হওয়ায় উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
বগুড়া সদর আসন (বগুড়া-৬) থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। এ কারণে নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। মধ্যরাত পর্যন্ত নারী কর্মী ও সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি জনসভাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বগুড়াবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া করা হয়।
তারেক রহমান বলেন,
দেশ পরিচালনার দায়িত্ব শুধু একটি অঞ্চল বা একটি এলাকার কথা চিন্তা করে নিলে হবে না। শুধু বগুড়া নয়, পুরো দেশকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। কোথাও যেন বঞ্চনা না থাকে, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। চাকরি থেকে শুরু করে সবকিছু হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে।
তিনি আরও বলেন,
গত ১৫ বছরে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব খাত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এই আবেগঘন প্রত্যাবর্তন বগুড়ার রাজনীতিতে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।