আওয়ামী লীগের একসময়ের সংসদ সদস্য ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদের বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তার এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ বিএনপিতে যোগ দেন। এর পরপরই তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে পাবনা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডক্টর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেনের নেতৃত্বে ন্যায় ও ইনসাফের পথে কাজ করার অঙ্গীকারে জামায়াতে যোগ দেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
জামায়াতে যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের পাথাইলহাট গ্রামের বিএনপি নেতা সোহেল রানা তার দলবলসহ জামায়াতে যোগ দেন। এর আগে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) নন্দনপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে আওয়ামী লীগের সাঁথিয়া উপজেলা সহ-দপ্তর সম্পাদক আঃ হামিদ মেম্বার, নন্দনপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস আলী, আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন, শ্রী সুনীল কুমার সরকার, বিএনপি নেতা আঃ ছাত্তার, সবুজ আলী, শাহাদাত আলীসহ তাদের অনুসারীরা জামায়াতে যোগ দেন।
এছাড়া ২২ জানুয়ারি কাশিনাথপুর ইউনিয়নের হুইখালী গ্রামের একসময়ের আওয়ামী লীগ নেতা মীর জাহিদ ও রফিকুল ইসলাম প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীসহ জামায়াতে যোগদান করেন। ২৮ জানুয়ারি কাশিনাথপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মোঃ আরিফুল ইসলাম তার দলবলসহ জামায়াতে যোগ দেন।
আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগদানকারী নেতাকর্মীরা বলেন, আবু সাইয়িদ যে দলে যান, সে দলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা তার সঙ্গে রাজনীতি করে ব্যক্তিগতভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, তেমনি দেশও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সাঁথিয়া ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা যোগ্য প্রার্থী ডক্টর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেনের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অন্যদিকে বিএনপি থেকে যোগদানকারী নেতাকর্মীরা বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করি। আবু সাইয়িদের মতো বিতর্কিত ব্যক্তির বিএনপিতে যোগদানে আমরা হতাশ। যে দলে ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা থাকবে, সে দলে আমাদের থাকা সম্ভব নয়। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছি।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে এসেছে বলেও তারা মনে করেন।