
X
চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখা এবং জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। বন্দরকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলন ও শাটডাউন কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময় কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল বা মানববন্ধন করা যাবে না।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং ‘১(ক)’ শ্রেণির অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই)। দেশের অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এ বন্দর দিয়েই সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্যশস্য, জ্বালানি ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল পরিবহনে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার পণ্যবাহী যানবাহন বন্দর এলাকায় চলাচল করে। ফলে এ এলাকায় যানজটমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশের কারণে যানজট সৃষ্টি হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এসব বিবেচনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯ ও ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ বন্দরসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। জনসমাগম হয় এমন কোনো কর্মসূচিও পালন করা যাবে না। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও সমাবেশ এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার কর্মবিরতির পর রোববার বন্দর এলাকায় পূর্ণ শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর বন্দরের স্বার্থবিরোধী এবং এতে স্থানীয় শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আদালতের রায় নিয়েও তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চার কর্মচারীকে ঢাকার পানগাঁওয়ে বদলি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন- অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন, উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম এবং এস এস খালাসী মো. ফরিদুর রহমান। এ সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বন্দর এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অফিস চলাকালে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী মিছিল, মহড়া বা আন্দোলনে অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বন্দর একটি সংবেদনশীল স্থাপনা হওয়ায় এখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
শ্রমিক আন্দোলন, শাটডাউন কর্মসূচি এবং পুলিশের এক মাসের নিষেধাজ্ঞার ফলে বন্দর এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় থাকলেও শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই এখন সবার নজর।