প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম (ভিজিট : ৬৯)

X
সফলতার গল্প কখনোই হঠাৎ তৈরি হয় না। এর পেছনে থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং বারবার ব্যর্থতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প। তেমনই অনুপ্রেরণামূলক দুটি নাম শিক্ষক বাসন্তী রাণী দাস ও রোমা রাণী সাহা।
মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় দায়িত্ব পালনরত এই দুই শিক্ষক ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেছেন।
সদর উপজেলার পশ্চিম মেজ্জা শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের শিক্ষক বাসন্তী রাণী দাস টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অন্যদিকে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর মহাশশ্মান কালি মন্দিরের শিক্ষক রোমা রাণী সাহা ইতোমধ্যে দুইবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
দুজনেই তাঁদের দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তাঁরা পিছিয়ে পড়েননি। বরং প্রতিটি বাধাকে শক্তিতে রূপান্তর করে এগিয়ে গেছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।
তাঁদের জীবনদর্শন সহজ কিন্তু গভীর- জীবন মানেই এক অসাধারণ যাত্রা। প্রতিটি দিন নতুন কিছু শেখার, নতুনভাবে ভাবার ও স্বপ্ন দেখার সুযোগ। কঠিন সময় এলে তাঁরা বিশ্বাস করেন, সেই সময়ই মানুষকে আরও দৃঢ় ও অভিজ্ঞ করে তোলে।
তাঁরা শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেন না, শেখান কৃতজ্ঞতা, ইতিবাচকতা ও স্বপ্ন দেখার সাহস। ছোট ছোট বিষয়ের জন্য কৃতজ্ঞ থাকা, নিজের সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখা এবং বড় স্বপ্নের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা তাঁদের কাজের মধ্যেই ফুটে ওঠে।
বাসন্তী ও রোমা বিশ্বাস করেন- স্বপ্ন কখনো অসম্ভব নয়, যদি তার পেছনে নিষ্ঠার সঙ্গে লেগে থাকা যায়। তাঁদের শ্রম ও সাধনা আগামী দিনেও তাঁদের আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশাবাদী স্থানীয় মানুষজন।
সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে তাঁরা শিশুদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে তাঁরা মানুষ গড়ার নীরব কারিগর, যাঁদের অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।